জনগণের ভালোবাসার দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪ | ১০:৩৭ অপরাহ্ণ |

জনগণের ভালোবাসার দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
Spread the love

২৩ জুন ২০২৪ বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ উদযাপন করতে যাচ্ছে ৭৫ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। আওয়ামী লীগ শুধুমাত্র বাংলাদেশেরই নয় উপমহাদেশেরও অন্যতম প্রাচীন ও সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক সংগঠন। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সাথে যেমনভাবে জড়িয়ে আছে কংগ্রেস, পাকিস্তানের স্বাধীনতার সাথে জড়িয়ে আছে মুসলিম লীগ, ঠিক তেমনিভাবে বাংলাদেশ নামক স্বাধীন রাস্ট্রের জন্মের সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে একটি নাম আর সেটি হলো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আর সেইসাথে বঙ্গবন্ধুর নাম। আওয়ামী লীগ মিশে আছে এদেশের মাটির সাথে, মানুষের সাথে।

আওয়ামী লীগ শব্দের উৎপত্তি আওয়াম ও লীগ দুটো প্রতিশব্দ থেকে। যার অর্থ দাঁড়ায় আওয়াম মানে সাধারণ মানুষ বা জনগণ আর লীগ অর্থ সঙ্ঘ বা দল। দুটো শব্দ এক করলে হয় জনগণের দল। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলণ থেকে শুরু করে ১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন, আইয়ুব খানের এক দশকের স্বৈরশাসন-বিরোধী আন্দোলন, ’৬২ ও ’৬৪-এর শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৪-এর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রতিরোধ, ’৬৬-এর ঐতিহাসিক ৬ ও ১১ দফা আন্দোলন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৬-দফাভিত্তিক ’৭০-এর নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয়, ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম” খ্যাত কালজয়ী ভাষণ ও পরবর্তীতে পাকিস্তানি শাসকদের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর আহŸানে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন, ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক ইতিহাসের নৃশংসতম গণহত্যার পর, ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাঙালি জাতি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের।

webnewsdesign.com

জনগণের এই দল জনগণকে সাথে নিয়েই পাকিস্তানের জেল থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৭২ সালে যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি নবীন দেশকে পুনর্গঠনের কাজে হাত দেন বঙ্গবন্ধু। মাত্র সাড়ে তিন বছরেই তার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার সময়োপযোগী বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে শুরু করে। প্রথমভাগে পুনবার্সন ও পুনর্গঠন এবং দ্বিতীয়ভাগে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের দিকে নজর দেন বঙ্গবন্ধু। এরই মধ্যে বাংলায় সোনার ফসল ফলতে শুরু করে ঠিক তখনই স্বাধীনতাবিরোধী ঘাতকেরা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে, যার ইতিহাস আমাদের সবারই জানা। এরপর দিন যায় বছর যায়, খানিকটা ছন্দপতন।

এরপর, ১৯৮১ সালের ১৭ মে, দেশে ফিরলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। ১৯৭৫ সালের ঘাতকেরা মনে করেছিল, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। তা ভুল প্রমাণিত করে দলকে নতুন জীবন দান করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। দলীয় সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে দেশে ফিরে কয়েকভাগে বিভক্ত আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। তাঁর ধীরশক্তি, দৃঢ়তা, লক্ষ্য স্থিরে বিচক্ষণতা, সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা আর দূরদর্শিতা আওয়ামী লীগকে বর্তমান অবস্থায় নিয়ে এসেছে। প্রমান করলেন জনগণের সংগঠনের মৃত্যু নেই।

আশির দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক ভূমিকা এ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অনন্য এক মাইলফলক। নানা সংকটের পর, ১৯৯৬ সালে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে আবারও আসে জনগণের প্রিয় আওয়ামী লীগ। এরপর ২০০৮ সালের নির্বাচনেও রেকর্ডসংখ্যক আসন নিয়ে বিপুল ভোটে জয়ী হয় মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দলটি। যা সম্ভব হয়েছে জনগণের আস্থা, ভালোবাসা এবং সেইসাথে জনগণের প্রতি আওয়ামী লীগের অঙ্গীকার আর দায়বদ্ধতার কারণে।

বাঙালি জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন জনমানুষের দল আওয়ামী লীগের হাত ধরেই। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন এ দেশের স্বাধীনতা। আর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অর্জন এ দেশের উন্নয়ন। তার উদ্যোগের ফলেই অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোলমডেল। ২০০৮ থেকে আওয়ামী লীগ টানা চার মেয়াদ ধরে ক্ষমতায়। এরই মধ্যে ‘উন্নয়নের মহাসড়কে’ অবস্থান করছে বাংলাদেশ। সকল দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র, চোখ রাঙ্গানি উপেক্ষা করে দেশের বৃহত্তম সেতু পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মান সম্পন্ন করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। এই সেতুর ফলে বদলে যাচ্ছে পুরো দেশের অর্থনৈতিক চিত্র পাশাপশি এই সেতু দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার যোগাযোগ, বাণিজ্য, পর্যটনসহ নানা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। সেইসাথে আরো নানা অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ চলমান। সারা দেশে রাস্তাঘাটের উন্নয়নসহ অবকাঠামো নির্মাণের কর্মযজ্ঞ চলছে যারমধ্যে বঙ্গবন্ধু টানেল, মেট্রোরেল, এক্সপ্রেসওয়ে উল্লেখযোগ্য। ঢাকার আশপাশে নদ-নদী রক্ষা করে পরিবেশের সৌন্দর্য্য রক্ষায়ও চলছে নানাবিধ কর্মকাÐ। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণকাজ সহজ ছিল না। কিন্তু তা করে বিশ্বকে বঙ্গবন্ধুকন্যা দেখিয়ে দিচ্ছেন যে, বাংলাদেশ পারে, বাংলাদেশের মানুষ পারে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে। আমরা আজ এক নতুন বাংলাদেশকে দেখতে পাচ্ছি, নতুন স্বপ্ন বুনতে পারছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত, সমৃদ্ধ আর স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার ফ্রেমওয়ার্ক দিয়েছেন। দিয়েছেন শতবর্ষব্যাপী ডেল্টা প্লান। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আওয়ামী লীগের হাত ধরে এবং বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন উন্নত দেশের অভিমুখে ধাবমান।

জনগণের দল আওয়ামী লীগ সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়েই তাদের চাহিদা পূরণকে প্রাধান্য দিয়েই কাজ করতেই অঙ্গীকারাবদ্ধ। মানুষ জানে দেশের চলমান উন্নয়ন প্রক্রিয়া অব্যহত রয়েছে তা থেমে যাবে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় না থাকলে। জনগণ তাদের নিজেদের প্রয়োজনেই, জাতির বৃহৎ স্বার্থে ভোটের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারকে আবারোও ক্ষমতায় নিয়ে এসেছে। আর জনগণ তাদের ভালোবাসার দলকে সমর্থন করে যাবে আগামীর দিনগুলোতে। প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীদের দেশবিরোধী সকল অপচেষ্টার জবাব দিবে সরকারের পাশে থেকে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও আওয়ামী লীগের জয়যাত্রা অব্যাহত থাকুক। আমরা শুধু একটি কথাই বলব, তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সুখে-দুঃখে, বিপদে আপদে সর্বদা দেশবাশীর পাশে আছে এবং থাকবে। অপ্রতিরোধ্য আওয়ামীলীগ কেবল অতীত বর্তমান নয়, বাংলাদেশের ভবিষ্যতের নির্মাতা। জনগণের ভালোবসায় টিকে থাকবে জনগণের দল এই হোক আওয়ামী লীগের ৭৫ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আমাদের প্রত্যাশা।

লেখক: শিক্ষক ও কলামিস্ট, সহকারী অধ্যাপক, শিক্ষা বিভাগ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

 

 

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com