আপডেট

x

চেয়ারম্যান পিতা-পুত্রের নির্বাচন না করায় হত্যা মামলায় জড়ানোর অভিযোগ

সোমবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৬:১৭ অপরাহ্ণ | 173 বার

চেয়ারম্যান পিতা-পুত্রের নির্বাচন না করায় হত্যা মামলায় জড়ানোর অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার চেয়ারম্যান ও তার ছেলে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গত ৩০ বছর যাবত ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার অভিযোগ করেছেন এক নারী ইউপি সদস্য। এরই প্রতিবাদ করায় তার ছেলেকে হত্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়া অভিযোগ করেন ওই নারী ইউপি সদস্য। সোমবার বেলা ১১টার ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত ৭,৮ ও ৯নং ওয়ার্ড সদস্য ইসরাত জাহান।


ইউপি সদস্য ইসরাত জাহান জাহান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ফিরোজুর রহমান ওলিও ও তার ছেলে সুলতানপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান শেখ ওমর ফারুকের বিপক্ষে যারা নির্বাচন করেছে তাদেরকে মামলাসহ বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করে আসছে। সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ফিরোজুর রহমান ওলিও তার মদদপুষ্ট স্থানীয় খায়ের মেম্বারকে দিয়ে সকল অপকর্ম করিয়ে চলেছেন। সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে এই খায়ের মেম্বার বিপুল অংকের অর্থ কামিয়েছেন। ইতিপূর্বে শেখ ওমর ফারুকের নির্বাচন না করায় সে প্রকাশ্যে আমার ছেলে শফিকুল ইসলাম হৃদয়কে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল। এর প্রতিবাদে আমি আদালতে মামলা দায়ের এবং প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করি। এরই জেরে একটি সংস্থাকে হাত করে আমার ছেলে হত্যা মামলায় জড়িয়ে দিয়েছেন ফিরোজুর রহমান ওলিও। পরে আদালতে মিথ্যা ১৬৪ধারা জবানবন্দি দেখিয়েছে। এই মিথ্যা জবানবন্দির বিরুদ্ধে আমরা আদালতে রিট্যেক পিটিশন জমা দিয়েছি, যা আদালত আমলে নিয়েছেন।

webnewsdesign.com

সংবাদ সম্মেলনে সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামের মতিলাল চৌধুরী নামের এক ব্যক্তি বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান ফিরোজুর রহমান ওলিও’র নির্বাচন না করায় স্থানীয় বিরামপুর বাজার থেকে সাধন চৌধুরী নামক এক সংখ্যালঘুকে অপহরণের চেষ্টা করা হয়। এসময় গ্রামের লোকজনের সহায়তায় সে রক্ষা পায়। এই ঘটনায় সাধন চৌধুরী বাদি হয়ে সদর মডেল থানায় ফিরোজুর রহমান ওলিও’র বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের মধ্যস্থতায় মিমাংসা করা হয়। কিন্তু এরপর ফিরোজুর রহমান ওলিও তার লোকজন সাধন চৌধুরীকে সময় মতো দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিল। গত ৯ সেপ্টেম্বর আমার ভাই সাধন চৌধুরীকে পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে আসে। পরে থানায় গিয়ে জানতে পারি আমার ভাই সাধন চৌধুরীকে পাশের গ্রামের জেলে স্বপন হত্যা মামলায় আসামী করা হয়েছে। থানায় গিয়ে ফিরোজুর রহমান ওলিও’র ছেলে বর্তমান সুলতানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ ওমর ফারুক আমার ভাই সাধন চৌধুরীকে বলেন,’ আমার আব্বার কথা মতো চললে তোর এই অবস্থা হতো না। এখন সময় আছে আমার আব্বার কাছে যাও, তাহলে বাচতে পারবে’।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা প্রভাবশালী এই পিতা-পুত্রের অত্যাচার থেকে বাচতে স্থানীয় এমপি ও জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন কমল চৌধুরী, অমিওবালা চৌধুরী, অমল চৌধুরী, সৌরভ সরকার, কাশেম মিয়া প্রমুখ।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার চেয়ারম্যান ফিরোজুর রহমান ওলিও বলেন, ‘তাদেরকে কেন হত্যা মামলায় আসামী করা হয়েছে, তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জানেন। আমি এই বিষয়ে কিছুই জানি না। আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে’।


মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com