না ফেরার দেশে প্রখ্যাত আলেম আল্লামা তাফাজ্জুল হক হবিগঞ্জী

রবিবার, ০৫ জানুয়ারি ২০২০ | ৬:৫৬ অপরাহ্ণ | 230 বার

না ফেরার দেশে প্রখ্যাত আলেম আল্লামা তাফাজ্জুল হক হবিগঞ্জী

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র সহ-সভাপতি, উপমহাদেশের শীর্ষ হাদীস বিশারদ, শায়খুল হাদীস আল্লামা তাফাজ্জল হক ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি….. রাজিউন)। মৃত্যুকালে উনার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিলেটের একটি হাসপাতালে রোববার (৫ জানুয়ারি) বিকেলের দিকে তিনি ইন্তেকাল করেন।


আল্লামা তাফাজ্জুল হক হবিগঞ্জী বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারতে অধ্যায়ন ও শিক্ষকতা পেশায় জড়িত ছিলেন। চট্টগ্রামের আল্লামা আহমেদ শফীর পরেই আল্লামা তাফাজ্জুল হককে দেশের বয়োজেষ্ট আলেম হিসাবে গন্য করা হয়। তার আমন্ত্রণে হবিগঞ্জের জামেয়া মাদ্রাসায় সৌদী আরবের দুই পবিত্র মসজিদের ইমাম, বায়তুল মোকাদ্দসের ইমামসহ দেশ ও বিদেশের বহু আলেম এসেছেন।

হবিগঞ্জ জামেয়া ইসলামিয়া আরাবিয়া টাইটেল মাদ্রাসা, হবিগঞ্জ তেতৈয়া মাদানীনগর মহিলা টাইটেল মাদ্রাসা, নুরুল হেরা জামে মসজিদসহ বহু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা তাফাজ্জুল হক। উনার মৃত্যুতে হবিগঞ্জে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
হবিগঞ্জের সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেমে দ্বীন শায়খুল হাদীস আল্লামা তাফাজ্জুল হক ইসলাম প্রিয় মানুষের একটি প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয়েছিলেন। তাকে ঘিরে সাধারণ মুসল্লীদের আবেগ অনুভূতি ছিল বাধ ভাঙ্গা জুয়ারের মতো।

১৯৪৪ সালে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার কাটাখালি গ্রামে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। তার বাবা মাওলানা আব্দুন নুর ছিলেন বড় মাপের আলেম। ৫ ভাইয়ের মধ্যে তিনিই বড়। উনার লেখাপড়ার শুরু বাবার হাত ধরেই। ইসলামের মৌলিক শিক্ষা তিনি গ্রহণ করেন চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসায়। বাংলাদেশের প্রখ্যাত পীর ও আলেমে দ্বীন চট্টগ্রাম হাটহাজারী মাদ্রাসার পরিচালক শায়খুল হাদীস আল্লামা আহমদ শফি তার শিক্ষক। হবিগঞ্জের রায়ধর মাদ্রাসার মুহাদ্দিস হিসাবে তিনি প্রথম শিক্ষকতার পেশা শুরু করেন। একবছর তিনি সেখানে ছিলেন। ময়মনসিংহের জামেয়া আশরাফুল উলুম মাদ্রাসাসহ ময়মনসিংহ জেলায় তিনি বেশ কয়েক বছর শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। স্বাধীনতার পর তিনি মুহাদ্দিস হিসাবে যোগ দেন হবিগঞ্জর ঐতিহ্যবাহী উমেদনগর মাদ্রাসায়। ১৯৯৭ সালে হবিগঞ্জের তেতৈয়া গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেন মাদানী নগর মহিলা মাদ্রাসা। এই পর্যন্ত মহিলা মাদ্রাসা থেকে ২২৫ জনেরও বেশি মহিলা মুহাদ্দিস সনদ নিয়ে বের হয়েছেন।

শায়খুল হাদিস তাফাজ্জুল হক বিয়ে করেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ এর বড় হুজুর হিসাবে খ্যাত বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের প্রবক্তা এবং বৃটিশদের কালো পতাকা প্রদর্শনকারী মাওলানা আরিফে রাব্বানীর কন্যাকে। তার শ্যালক খালেদ সাইফুল্লাহ এখন ময়মনসিংহের জনপ্রিয় আলেম। তাফাজ্জল হকের ৫ ছেলের মধ্যে ৫জনই প্রখ্যাত মাওলানা। তাদের মাঝে ৪জন কোরআানে হাফেজ। ৪ কন্যার মধ্যে সবাই টাইটেল পাশ আলেমা। নাতী নাতনীদের প্রায় সবাই কোরআনে হাফেজ ও মাওলানা। আল্লামা তাফাজ্জুল হক লন্ডন, আমেরিকা, কানাডাসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশ সফর করেছেন। তিনি জীবনে ৩৮ বার পবিত্র হজ্জব্রত পালন করেন। হবিগঞ্জের নুরুল হেরা জামে মসজিদ প্রতিষ্ঠাসহ একাধিক ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন তিনি। গরীব দুঃখীদের সাহায্যার্থে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন খুদ্দামুদ্দিন সমিতি। এই সমিতি থেকে বিভিন্ন প্রকাশনাও বের করা হয়।

তার ওয়াজ শুনার জন্য হাজার হাজার মানুষ নির্ঘুম রাত কাটাতেন। দেশে বিদেশে লক্ষাধিক ভক্তের এক বিশাল পরিবার নিয়ে তার সংসার। সপেদ লুঙ্গি আর পাঞ্জাবী, টুপি-ই তার প্রিয় পোষাক। সাধারণ মানুষের মতো চলতে ভালবাসেন আল্লামা তাফাজ্জুল হক। অতি রাগী তবে কখনও বদমেজাজী ছিলেন না।


মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com