গ্রামে ঢুকতে গেলে ধুতে হবে হাত, নাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা

সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০ | ৭:০৪ অপরাহ্ণ | 566 বার

গ্রামে ঢুকতে গেলে ধুতে হবে হাত, নাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা

গ্রামে ঢুকার মুখে বাশেঁর ব্যারিকেড। এরপাশেই একটি বেসিন। বেসিনের ওপর রাখা ৩টি বোতল। এর একটি হাত ধোয়া এবং শরীরে স্প্রে করার, অন্য দুটি গাড়ি জীবানুমুক্ত করার। বেসিনের পানির ড্রামের ওপর সাটানো একটি নোটিশ।


যাতে লিখা- ‘প্রিয় গ্রামবাসী,আসসালামু আলাইকুম। একটি বিশেষ ঘোষনা। সকলের অবগতির জন্যে জানানো যাচ্ছে যে, প্রানঘাতী ভাইরাস করোনার আতঙ্কে সারা বিশ্ববাসী এখন আতঙ্কিত। তাই গ্রামের সর্বসাধারন ভাইবোনদের জানানো যাচ্ছে যে, আপনারা সকলে যার যার ঘরে অবস্থান করুন। অপ্রয়োজনে বাইরে ঘুরাঘুরি করবেন না। গ্রামের মুল রাস্তায় জীবানুনাশক স্প্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সুতরাং গ্রাম থেকে বাহির হওয়ার সময় ও প্রবেশের সময় জীবানুনাশক স্প্রেটি ব্যবহার করুন। যদি কেউ গাড়ি নিয়ে আসা যাওয়া করেন তবে উক্ত স্প্রে দিয়ে আপনার গাড়িটিও স্প্রে করবেন। উক্ত কাজটি নিজে করুন এবং অন্যকেও উৎসাহিত করুন।’

বি: দ্র: দিয়ে লেখা হয়েছে, উক্ত কাজটি করার ক্ষেত্রে কেউ যদি আপত্তি পোষন করে বা কারো সাথে দূর্ব্যবহার করেন তার প্রতি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। অতএব, নিজের জীবনকে মুল্যায়ন করুন,গ্রামকে ভাইরাস মুক্ত রাখুন।
করোনা পরিস্থিতিতে সচেতনতা সৃষ্টিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের জালশুকা গ্রামের যুবকদের উদ্যোগে এই ব্যবস্থা।

রোববার বিকেলে এই কার্য্যক্রম চালুর আগে ২৪ শে মার্চ নিজের গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় জীবানুনাশক স্প্রে ছড়িয়েছে তারা। এই যুবকদের একজন রেজাউল হক বুলু জানান- গ্রামের ভেতর আসা-যাওয়ার সময় সবাই যেন জীবনামুক্ত হতে পারেন সেইজন্যে তারা এই ব্যবস্থা নিয়েছেন। তাছাড়া হুট করে কেউ যেন গ্রামের ভেতর গাড়ি নিয়ে ঢুকে না পড়ে। সেজন্যে বাশেঁর ব্যারিকেড দেয়া হয়েছে। সেখানে নেমে গাড়ির যাত্রীরা নিজে ও গাড়ি জীবনামুক্ত করেই গ্রামে ঢুকবেন। মোট কথা গ্রামে যেন প্রানঘাতী এই ভাইরাস ঢুকতে না পারে সেটাই আমাদের চেষ্টা। বড়াইল ইউনিয়নের এই গ্রামটিতে আড়াই হাজার লোকের বাস। এরমধ্যে এই মুহুর্তে গ্রামে ৫ জন প্রবাসী রয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন ইটালি থেকে আসা। বুলু জানান- ইটালি আগত ব্যাক্তি হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। বাকী ৪ জনের হোম কোয়ারেন্টিন শেষ হলেও তারা অবাধে ঘুরাফেরা করছেনা। তাছাড়া গ্রামের বাসিন্দা যারা ঢাকা এবং অন্যান্য জায়গা থেকে এসেছেন তাদেরকেও আমরা সচেতন থাকার অনুরোধ করছি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-নবীনগর সড়ক থেকেই গ্রামে প্রবেশের এই সড়ক শুরু। দেড়-দু’শো ফুট এগিয়ে একটি বাংলো ঘর,‘লালকুটির’। এর সামনে বসেই গ্রামে লোকের চলাচল নজরে রাখেন সোহাগ, রিজেন, আলমগীর, মজিবুর, শুভন, রিয়াদ, দুলন, মামুন, জসিম,বক্যাডেট ইকরাম, রাজু, আরমান।

জালশুকা ছাড়াও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অন্য আরো কয়েকটি গ্রামে যুবকদের এমন সচেতনতা কার্যক্রম রয়েছে।


এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন গ্রামের হাট বাজারে সব ধরনের দোকানপাট খোলা থাকছে সরকারী বিধিনিষেদ অমান্য করে। লোক সমাগমও হচ্ছে। নবীনগরের গোসাইপুর ও বড়াইল বাজার,আশুগঞ্জের দক্ষিন তারুয়া, সদর উপজেলার বড়হরন, অষ্টগ্রাম, মোহনপুর ও সুহিলপুর বাজার ঘুরে রোববার দেখা গেছে এচিত্র। তবে বড়াইল বাজারে গ্রাম পুলিশদের অবস্থান করতে দেখা যায়। তারপরও সাপ্তাহিক হাটবারের দিন বলে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভীড় ছিলো। বাজারেই দেখা মিলে ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের।

তিনি জানান- তারা এব্যাপারে লোকজনকে সচেতন করছেন। গ্রাম পুলিশ নিয়োজিত রেখেছেন, যাতে কেউ দোকানপাট না খুলে সেটি দেখার জন্যে। তালশহর পূর্ব ইউনিয়নের মোহনপুর বাজারে জুতা-স্যান্ডেল বিক্রির দোকানও খোলা দেখতে পাওয়া যায়।

সুহিলপুর গ্রামের শাহজাহান সাজু জানান- পুলিশ সকালে এক চক্কর দেয়। কিন্তু বাজার সরগরম হয় বিকেলে। বড়হরন গ্রামের ইসমাইল মিয়া জানান-সকালে তাদের বাজার বসে। খোলা থাকে সব ধরনের দোকান পাট। বিকেলে আছরের পর আবার ব্যাপক লোক সমাগম হয়। মনে হয় স্বাভাবিক অবস্থা। কোন পদক্ষেপ আছে বলে মনে হয়না। আর পুলিশ আসে দুপুরের দিকে। তখন তেমন লোক থাকেনা।

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com