কসবায়

গৃহবধুকে নির্যাতনের পর খালি স্ট্যাম্পে সই নেওয়ার অভিযোগ,উল্টো মামলা আ’লীগ নেতার

বৃহস্পতিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ১০:৫৯ অপরাহ্ণ |

গৃহবধুকে নির্যাতনের পর খালি স্ট্যাম্পে সই নেওয়ার অভিযোগ,উল্টো মামলা আ’লীগ নেতার
অভিযুক্ত ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম খান।- ফাইল ছবি
Spread the love

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে নার্গিস আক্তার (৪০) নামে এক গৃহবধুকে চারিত্রিক মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বেদম প্রহার করে রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এই নেক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে তারই ভাসুরপুত্র রাজিব ও সাবেক ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম খান ও তার সাঙ্গ-পাঙ্গরা। হামলার শিকার ওই গৃহবধু উপজেলার সৈয়দাবাদ গ্রামের প্রবাসী দুলাল খানের স্ত্রী।

এই নির্যাতনের ঘটনায় নার্গিস আক্তার বাদি হয়ে গত ২০ আগষ্ট কসবা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার খবর পেয়ে পুনরায় নার্গিসের বাড়িতে গিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় ছোট সন্তানকে জিম্মি করে তার কাছ থেকে অলিখিত তিনটি ষ্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেয় রফিকুল ইসলাম ও তার সাঙ্গ-পাঙ্গরা। জোরপূর্বক স্বাক্ষর আনা স্ট্যাম্পগুলোতে তার নিজের মতো করে মামলা সাজিয়ে নার্গিসকে হয়রানি করছে রফিকুল ইসলাম খান। রফিকুল ইসলাম খান বিনাউটি ইউনিয়ন ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক। এ ঘৃন্য ঘটনা নিয়ে গ্রামে রফিকুল ইসলাম ও তার সাঙ্গ-পাঙ্গদের বিরুদ্ধে নিন্দার ঝড় উঠেছে।

webnewsdesign.com

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২১ আগষ্ট হয়রানী থেকে বাঁচতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়া অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্টেটের আদালতে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী নার্গিস আক্তার। বিজ্ঞ আদালত ষ্ট্যাম্প উদ্ধার ও তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য কসবা থানাকে নির্দেশ দেন। ষ্ট্যাম্প উদ্ধারের মামলা করায় সাবেক ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম খান ক্ষিপ্ত হয়ে খালি ষ্ট্যাম্পগুলোতে ইচ্ছেমতো লিখে নার্গিস আক্তার ও তাঁর ভাই সবুজ ভূইয়া (৩০) কে আসামী করে সাড়ে আট লাখ টাকা পাওনা দাবী করে একটি সাজানো মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন।

নার্গিস আক্তারের দায়ের করা কসবা থানার মামলা সুত্রে জানা যায়, তার স্বামী সহজ সরল বলে ভাসুর পুত্র রাজিব খান (৩২) ভাসুর স্ত্রী আনারকলী (৫৫) ভাসুর কন্যা হীরা মুক্তা (২৭) তার শ্বশুরের দেয়া বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করতে দীর্ঘদিন ধরে নানাভাবে চক্রান্ত করে আসছিল। এসব নিয়ে মামলা মোকাদ্দমাও চলমান রয়েছে। একাধিকবার তার স্বামী দুলাল খানকেও মারধোর করেছে অভিযুক্তরা। এসব ঘটনার রেশ ধরে গত ১৪ আগষ্ট সন্ধ্যায় রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে রাজিব, আনারকলী ও হীরা মুক্তা বাড়িতে জোরপূর্বক ঢুকে নার্গিস আক্তারকে রড, লাঠি দ্বারা বেদম প্রহার করে। সন্ত্রাসী কায়দায় নার্গিসের কাপড়-চোপর ছিঁড়ে ফেলে তার দেহ রক্তাক্ত জখম করে এবংশ্লীলতাহানি করে। পরে গ্রামের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসা নেয়ার পর নার্গিস কসবা থানায় গত ২০ আগষ্ট মামলা করেন। থানায় মামলার করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ২১ আগষ্ট তার সন্তানকে জিম্মি করে খালি ষ্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেয় সাবেক ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম খান, রাজিব, আনারকলী ও হীরা মুক্তা।

নার্গিস আক্তার জানান, তার স্বামী প্রবাসে থাকায় রফিকুল ইসলাম বিভিন্ন সময় নার্গিসকে একান্তে তার বাড়িতে দেখা করতে বলতেন। কিন্তু নার্গিস রফিকুল ইসলামের স্বভাব চরিত্র সম্পর্কে অবগত থাকায় তিনি তার কথায় সায় দেননি। ফলে রফিকুল ইসলাম নার্গিসের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়। নার্গিস আক্তার আরও জানান, আমি না কি আমার ১৬ বছরের ছেলেকে বিদেশ পাঠানোর জন্য রফিকুল ইসলাম থেকে ওই সকল ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে আট লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা নিয়েছি এবং ওই টাকা পরিশোধ করছিনা। তাই রফিকুল ইসলাম আমি এবং আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে গত ২৭ আগষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট কসবা আদালতে মিথ্যা ও সাজানো মামলা করেছেন। অথচ আমার ছেলে কলেজে এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্র। তার বয়স ১৬ বছর। আমার ছেলের নামে কোনো পাসপোর্টও করা হয়নি।

এসব ঘটনার পর থেকে নার্গিস আক্তারকে নিয়ে অভিযুক্ত আনারকলীর পুত্র প্রবাসে থেকে ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে নার্গিস আক্তারের ছবি দিয়ে নানা ধরনের আপত্তিকর কথাবার্তা লিখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিয়ে অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনায় নার্গিস বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে।

সৈয়দাবাদ গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম, কামাল হোসেন, বিল্লাল মেম্বারসহ গ্রামের বহু মানুষ জানিয়েছেন, রফিকের কুদৃষ্টি যে সকল নারীর উপর পড়েছে ওই সমস্ত পরিবারগুলো ভেঙ্গে তছনছ হয়ে গেছে। তার এসব কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে গ্রামের মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে রাজি হয়না।

এ বিষয়ে কসবা থানার অফিসার ইনর্চাজ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, ‘নার্গিসের উপর যে শারীরিক নির্যাতন হয়েছে এ বিষয়ে আমরা মামলা নিয়েছি। ষ্ট্যাম্প উদ্ধারের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের নির্দেশনা আমরা পেয়েছি। তদন্তপূর্বক আইনগত ও মানবিকভাবে পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।’

অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক রফিকুল ইসলাম খানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘নার্গিসকে তিনি মারধোর করেননি। এছাড়া অলিখিত ষ্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষরও নেননি। নার্গিসের দায়েরকৃত মামলার প্রায় দেড়মাস আগে নার্গিস তার কাছ থেকে ছেলে বিদেশ যাওয়ার জন্য টাকা নিয়েছেন।’

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com