আপডেট

x

গরীবের খাদ্য তালিকায় অনিয়মে বরখাস্ত হওয়া সেই কাউন্সিলরের ভরাডুবি, হারালো জামানত

সোমবার, ০১ মার্চ ২০২১ | ৩:০৮ অপরাহ্ণ | 1218 বার

গরীবের খাদ্য তালিকায় অনিয়মে বরখাস্ত হওয়া সেই কাউন্সিলরের ভরাডুবি, হারালো জামানত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার নির্বাচনে ৩ মেয়র প্রার্থী সহ ৩৩জন তাদের জামানত হারিয়েছেন। রোববার রাতে নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণা করার পর এই তথ্য জানা যায়। তবে এর মধ্যে আলোচিত ছিল ১০নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মাকবুল হোসাইনের নির্বাচনে জামানত হারানো।


নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার ১০নং ওয়ার্ডে রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ইভিএমে চলে ভোট গ্রহণ। ভোট গণনা শেষে রাতে ফলাফলে জানায়, ১০নং ওয়ার্ডে ফাইল কেবিনেট প্রতীকে ৩হাজার ৬২৭ ভোট পেয়ে ওয়ার্ড কাউন্সিল নির্বাচিত হয়েছেন কাউসার মিয়া। এছাড়াও শেখ মোহাম্মদ খোকন উটপাখি প্রতীকে পান ৮২১ ভোট, বর্তমান কাউন্সিলর মাকবুল হোসাইন পাঞ্জাবি প্রতীকে পান ৪৫১ ভোট, মো. সেলিম ব্লাকবোর্ড প্রতীকে পান ১৪৪ ভোট ও সামাদ আলী ডালিম প্রতীকে পান ৭৮ভোট।

webnewsdesign.com

১০নং ওয়ার্ডে ৪টি কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ছিল ১২হাজার ৭৬২ ভোট। এরমধ্যে রোববার নির্বাচনে বৈধ ভোট দিয়েছেন ৫হাজার ১২১জন ভোটার।

সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও পৌরসভা নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা জান্নাত জাহান বলেন, কমিশনের বিধিমালা অনুযায়ী গ্রহণ করা বৈধ ভোটের ৮ভাগের এক ভাগ ভোট কোন প্রার্থী না পেলে তার জামানত বাতিল হয়ে যাবে।

১০নং ওয়ার্ডের গ্রহণ করা মোট ভোট ৫ হাজার ১২১ভোটের ৮ ভাগের এক অংশ ৬৪০ভোটেরও বেশি। সেই পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১০নং বর্তমান কাউন্সিলর মাকবুল হোসাইন, মো. সেলিম ও সামাদ আলী নির্বাচনে জামানত হারিয়েছেন।

তবে কাউন্সিলর প্রার্থী মাকবুল হোসাইনের জামানত বাতিল হওয়ায় চলছে আলোচনার ঝড়। স্থানীয়রা বলছেন, ২০২০সালের ২০মে সচ্ছল ব্যক্তিদের নাম দুস্থদের জন্য বরাদ্দ খাদ্য তালিকায় (ওএমএস) রাখার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার ১০নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. মাকবুল হোসাইনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-সচিব মোহাম্মদ ফারুক হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাকে বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়েছিল। গরীব দুস্থদের খাদ্যের তালিকা জেলা আওয়ামী লীগের একনেতার পরিবারের ১৫জন ও কাউন্সিলর মাকবুল তার দুই ভাইয়ের নাম দেন। সরকারি তদন্তের তা প্রমাণিত হলে তাকে বহিষ্কার করা হয়। পরে তিনি উচ্চ আদালত থেকে নির্দেশনা পেয়ে পুনরায় কাউন্সিলর হিসেবে তিনি যোগদান করেন।


ওয়ার্ডবাসী জানান, মাকবুল নামের একজন আমাদের কাউন্সিলর আছে বলেই গত ৫বছর যাবত জেনেছি। কিন্তু তার চেহারা কোন দিন দেখিনি। জনপ্রতিনিধিরা জনগণের সাথে যদি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকে, তাহলে জনগণ অবশ্যই তাদের প্রত্যাখান করবে। কাউন্সিলর মাকবুলই তার উদাহরণ।

এই বিষয়ে কথা বলতে কাউন্সিলর মুফতি মাকবুল হোসাইনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি৷

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com