ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ করে কিসের আন্দোলন

বৃহস্পতিবার, ০৪ জুলাই ২০২৪ | ৯:৫২ অপরাহ্ণ |

ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ করে কিসের আন্দোলন
ফাইল ছবি
Spread the love

চিকিৎসা, আইনশৃঙ্খলারক্ষা, গণমাধ্যমসহ জরুরি পেশায় টানা কর্মবিরতির মাধ্যমে দাবি আদায় যেমন অগ্রহণযোগ্য তেমনই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোন একটি গোষ্ঠীর দাবি আদায়ে সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন অনৈতিক কিনা সে প্রশ্ন উঠেছে। সর্বজনীন পেনশন স্কিম প্রত্যাহারের দাবিতে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সর্বাত্মক কর্মবিরতির কারণে ৩৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা চলছে। ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া কর্মবিরতির ফলে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস, পরীক্ষা এবং দাপ্তরিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। দিনের পর দিন ক্ষমতা প্রদর্শনের মাধ্যমে যদি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের অবস্থানে অটল থাকে সেক্ষেত্রে বুহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় ‘অযৌক্তিক’ দাবিও মেনে নিতে হয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ পরিস্থিতির সুরাহা করা খুব কঠিন কিছু হওয়ার কথা না। শিক্ষকরা এখনও জানেনই না কী হতে চলেছে। তাদের ভুল জানাগুলো নিয়ে আরও কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা যেতে পারে।

সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অন্তর্ভুক্তির কারণে শিক্ষকরা নিজেদের ক্ষতি হওয়ার দাবি করছেন। যদিও পেনশন কর্তৃপক্ষ বলছে -এ ব্যবস্থায় আছে বহু গুণ লাভ। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ বলছে, শিক্ষকরা যেসব বিষয়ে আন্দোলন করছেন, তা অনেকটাই ভুল বোঝাবুঝি কিংবা সর্বজনীন পেনশনের প্রত্যয় স্কিম পুরোপুরি না বোঝার কারণে। বিদ্যমান সুবিধার চেয়েও প্রত্যয় স্কিমে অন্তত ১২ গুণ বেশি অবসরভাতা পাবেন শিক্ষকরা।

webnewsdesign.com

২০২৩ সালে সর্বজনীন পেনশন চালু করে কৃষক, শ্রমিক থেকে শুরু করে দেশের আপামর জনগোষ্ঠীর পড়ন্ত জীবন নিরাপদ করার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সুযোগ-সুবিধা বিবেচনা করে এ পর্যন্ত ‘প্রবাস’, ‘প্রগতি’, ‘সুরক্ষা’, ‘সমতা’ ও ‘প্রত্যয়’ নামে পাঁচটি পেনশন স্কিম চালু করা হয়েছে। এর প্রথম চারটি বেসরকারি খাতের নাগরিকদের জন্য এবং ‘প্রত্যয়’ নামের পঞ্চমটি স্ব-শাসিত, স্বায়ত্তশাসিত এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নাগরিকদের জন্য। ২০২৫ সালের ১ জুলাই তারিখের পর সরকারের চাকরিতে যোগ দেওয়া সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী এই স্কিমের আওতায় চলে আসবেন।

স্কিম নিয়ে শিক্ষকরা কী বলছেন:
প্রত্যয় স্কিম নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের প্রধান সমালোচনাগুলো হলো- বিদ্যমান ব্যবস্থায় চাকরিজীবীর বেতন থেকে টাকা কাটা হয় না, যা প্রত্যয় স্কিমে কাটা হবে; বিদ্যমান ব্যবস্থায় অধ্যাপকরা এককালীন গ্র্যাচুইটি বা আনুতোষিক পান ৮০,৭৩,০০০ টাকা, এ বিষয়ে প্রত্যয় স্কিমে কিছু বলা হয়নি; বিদ্যমান ব্যবস্থায় অর্জিত ছুটির পরিবর্তে অর্থ প্রদানের ব্যবস্থা থাকলেও প্রত্যয় স্কিমে এ বিষয়ে কোনও উল্লেখ নেই; বিদ্যমান ব্যবস্থায় পেনশনার ও নমিনি আজীবন পেনশনপ্রাপ্ত হন, প্রত্যয় স্কিমে পেনশনার যদিও আজীবন পেনশনপ্রাপ্ত হবেন কিন্তু পেনশনারের মৃত্যুর পর নমিনি পেনশনারের বয়স ৭৫ বৎসর পূর্তি পর্যন্ত পেনশনপ্রাপ্ত হবেন; বিদ্যমান ব্যবস্থায় নিট পেনশনের ওপর ৫ শতাংশ হারে বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হয়, প্রত্যয় স্কিমে বাৎসরিক ইনক্রিমেন্টের ব্যবস্থা নেই; বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবসরের সময়সীমা ৬৫ হলেও তা প্রত্যয় স্কিমে বিবেচনা করা হয়নি; এবং বিদ্যমান পেনশন স্কিমে মাসিক পেনশনের সঙ্গে মাসিক চিকিৎসা ভাতা, বছরে দুটি উৎসব ভাতা ও ১টি বৈশাখী ভাতা প্রদান করা হয়, প্রত্যয় স্কিমে এসব বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।

প্রত্যয় পেনশন স্কিমে গ্র্যাচুইটি বা চাকরির অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে কথা বলার সুযোগ নেই। একথা সবারই জানা, গ্রাচুয়িটির সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের সরাসরি সম্পর্ক। ১১ মার্চের অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে গ্র্যাচুইটি, উৎসব ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, অব্যবহৃত ছুটির পরিবর্তে অর্থ, ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কোনও কথা বলা হয়নি। তার মানে, সার্ভিস রুল অনুসারে ওগুলো যথা নিয়মে বলবৎ থাকবে। এসব বিষয় নিয়ে আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা তাদের সামনে হাজির করা জরুরি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

চার্টার্ড একাউন্ট্যান্ট ও অর্থনীতি বিশ্লেষক সাব্বির খান বলেন, প্রত্যয়সহ সর্বজনীন পেনশন স্কিমগুলোর সব কয়টিতে কিছু কিছু দুর্বলতা রয়েছে। উপরের আলোচনায় বোঝা যাচ্ছে যে শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করা এবং সেগুলোর সমাধান করা কঠিন কোনও কাজ হবে না। দরকার পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, মনোযোগ এবং সমাধানের সদিচ্ছা। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের দাবির প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং কয়েক লক্ষ শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবনের ক্ষতির কথা বিবেচনা করে শিগগিরই আলোচনায় বসে এই আন্দোলনের অবসান করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষাকার্যক্রম চালু করা দরকার।

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com