আপডেট

x

কোরবানি: ত্যাগের অনুপম নিদর্শন

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২০ | ১:১৫ পূর্বাহ্ণ | 202 বার

কোরবানি: ত্যাগের অনুপম নিদর্শন

কোরবানি শব্দটি মূলত আরবি কোরবান শব্দ থেকে এসেছে। কোরবান বলা হয় যা আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম হয়। তবে সাধারণত শব্দটি প্রাণী জবাই করার অর্থে ব্যবহৃত হয়।


★ কোরবানির সূচনা –
হজরত ইব্রাহীম (আ:) স্বপ্নে দেখেন, হে ইব্রাহীম তুমি কোরবানি কর। ঘুম থেকে উঠে তিনি একশত উট আল্লাহর রাহে কোরবানি করেন। দ্বিতীয় রাতে পুনরায় স্বপ্নে দেখেন হে ইব্রাহীম কোরবানি কর। সকালবেলা তিনি একশত উট পুনরায় কোরবানি করেন।

webnewsdesign.com

তৃতীয়রাতে স্বপনে দেখেন আল্লাহতায়ালা বলছেন, হে ইব্রাহীম কোরবানি কর। ইব্রাহীম (আ:)বললেন, হে আল্লাহ কি কোরবানি করব? আল্লাহতায়ালা বললেন, তোমার প্রিয় বস্তু কোরবানি কর। ইব্রাহীম (আ:) এর সবচেয়ে প্রিয়বস্তু ছিল ছেলে ইসমাইল (আ:)।

আল্লাহর হুকুম বাস্তবায়িত করতে ইব্রাহীম (আ:) পুত্র ইসমাইল (আ:)কে কোরবানি করতে মিনায় কোরবানি স্থলে নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে পুত্র ইসমাইলকে পিতা ইব্রাহীম বলছেন, হে বৎস, আমি স্বপ্নে আদিষ্ট হয়েছি তোমাকে কোরবানি (জবেহ) করছি, এ বিষয়ে তোমার মতামত কি? উত্তরে পুত্র ইসমাইল বলল হে আমার পিতা, আপনি যে আদেশ পেয়েছেন তা বাস্তবায়ন করুণ, আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন ইনশাআল্লাহ। পুত্রকে শায়িত করে যখন ছুরি চালালেন ছুরি কাজ করলনা। এ সময় আল্লাহতায়ালা ওহীর মাধ্যমে জানিয়ে দিলেন, হে ইব্রাহীম, তুমি তোমার স্বপ্নকে সত্যরুপে প্রমাণ করে দেখিয়েছ। এখন ইসমাইলের পরিবর্তে এই দুম্বাটি কোরবানি করে ফেল। সেই থেকে আজ অবধি মুসলিম জাতী সেই প্রতিকী কোরবানি দিয়ে আসছে। আল্লাহর কাছে ইব্রাহীম (আ:)এর কোরবানি এতো ই পছন্দ হয়েছে যে এই নিদর্শন কিয়ামত পর্যন্ত মুসলিম মিল্লাতের জন্য ওয়াজিব করে দিয়েছেন।

পবিত্র কোরআন ও হাদিসে কুরবানির অসংখ্য ফযিলত রয়েছে।

বিশিষ্ট সাহাবী হজরত যায়েদ ইবনে আরকাম (রা:)বলেন, সাহাবীগণ রাসুল (সা:)কে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল (সা:) কোরবানি কি? উত্তরে রাসুল (সা:) বললেন, এটা তোমাদের পিতা হজরত ইব্রাহীম (আ:) এর সুন্নাত। সাহাবীগণ বললেন, এতে আমাদের লাভ কি?


রাসুল(সা:) বললেন, কোরবানিকৃত পশুর প্রত্যেক পশমের বিনিময়ে নেকী প্রাপ্ত হবে।- (সুনানে ইবনে মাযাহ)

রাসুল(সা:) বলেন, কোরবানির পশু পুলসিরাতের উপর তোমাদের জন্য বাহন হবে। তাই তোমরা সুস্থ, সবল, মোটা তাজা পশু কোরবানি কর।

★ যাদের উপর কোরবানি ওয়াজিব-
প্রত্যেক জ্ঞানসম্পন্ন, বালেগ, মুকিম মুসলমান যে নেসাবপরিমাণ সম্পদের মালিক তার উপর কোরবানি ওয়াজিব। নেসাব দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, জীবনধারণে অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজনাদীর অতিরিক্ত সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা বা তার মূল্য পরিমাণ সম্পদ কারো কাছে বিদ্যমাণ থাকা। চাই এই সম্পদ সোনা-রুপা, অলংকারাদী, ব্যবসার পণ্য, বসবাসের অতিরিক্ত বাড়ী-ঘর ইত্যাদি যাই হোক।- (ফতোয়ায়ে শামী)

কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য সম্পদ যাকাতের মতো একবছর পর্যন্ত স্থায়ী হওয়া শর্ত নয়।

★ যে সকল পশু দিয়ে কোরবানি করা যায়-
(১)উট (২)গরু (৩)মহিষ (৪)দুম্বা (৫)ভেড়া (৬)ছাগল দিয়ে কুরবানি করা যায়। ত্রুটিপূর্ণ পশু দিয়ে কোরবানি করলে কোরবানি বৈধ হবে না।

হজরত আয়েশা (রা:) থেকে বর্ণিত, রাসুল(সা:) এরশাদ করেন, কোরবানির দিন বনি আদমের জন্য রক্ত প্রবাহ করা তথা কোরবানি করার চেয়ে আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয় অন্যকোন আমল নেই। নিশ্চয় কোরবানিকৃত পশু স্বীয় শিং, চুল ও খুরসহ আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হবে। নিঃসন্দেহে কোরবানির জন্য জবাইকৃত পশুর রক্ত মাটিতে পড়ার পূর্বেই আল্লাহর দরবারে কোরবানি কবুল হয়ে যায়। অতএব এই বিরাট সওয়াবের দিকে লক্ষ্য রেখে তোমরা আনন্দের সাথে কোরবানি কর।- (তিরমিযী শরিফ)

কোরবানি ইসলামের অন্যতম এক গুরুত্বপূর্ণ এবাদত। এই এবাদত একমাত্র আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি লাভের আশায় করা উচিৎ। পশু কোরবানির পাশাপাশি মানুষ যেন তার মনের ভিতর লুকিয়ে থাকা পশুত্বকে কোরবানি করে আল্লাহ ও রাসুল (সা:) এর বিধিবিধান নিজেদের বাস্তব জীবনে এর প্রতিফলন ঘটাতে পারে সে জন্য ই আল্লাহতায়ালা কোরবানির মতো এক গুরুত্বপূর্ণ এবাদত মুসলিম জাতীকে দান করেছেন। আল্লাহতায়ালা আমাদের সকলকে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় কোরবানি করার তাওফিক দান করুণ, আমিন।

লেখক-
যুগ্ম সম্পাদক
ইসলামী ঐক্যজোট
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখা।

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com