আপডেট

x

কাস্টমসের ছাড় পেল মিথ্যা ঘোষণায় ভারত থেকে আনা ৭শত ৭০টন ধূলো

সোমবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৩ | ৮:৪১ অপরাহ্ণ | 22 বার

কাস্টমসের ছাড় পেল মিথ্যা ঘোষণায় ভারত থেকে আনা ৭শত ৭০টন ধূলো

অবশেষে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আখাউড়া স্থলবন্দরে পড়ে থাকা ভারত থেকে আমদানিকৃত ২হাজার ৭শত গুরা পাথরের মধ্যে ৭শত ৭০ মেট্রিক্স টন ধূলো (ডাস্ট) কাস্টমস থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। সোমবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল থেকে ছাড় পাওয়া ডাস্ট গুলো খালাসের কার্যক্রম শুরু করেছে স্থলবন্দর সিএন্ডএফ এজেন্ট খলিফা এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি লোকেরা। দীর্ঘ দুই মাস ১০দিন ধূলো গুলো স্থলবন্দরে পড়ে ছিল। এর ফলে আমদানিকারকদের ২১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা মাসুল গুনতে হয়েছে।


স্থলবন্দর সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৩ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে প্রথমবারের মতো চূর্ণ পাথর ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা হয়। কয়েক দফায় মোট ২ হাজার ৭০০ টন চূর্ণ পাথর আমদানি করে ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এফকনস ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড। এ প্রতিষ্ঠানটি আশুগঞ্জ নদীবন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত মহাসড়ক চারলেনে উন্নীত করার কাজের জন্য পাথর আমদানি করেছে। এগুলো বন্দর থেকে ছাড়ানোর কাজ পায় আখাউড়া পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাকজিল খলিফা কাজলের মালিকানাধীন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট খলিফা এন্টারপ্রাইজ। চূর্ণ পাথর প্রথমবার আমদানি হওয়ায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ছাড়পত্র দেওয়ার কথা জানায় কাস্টমস। পরবর্তীতে পরীক্ষা করে জানা যায় মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে ভারত থেকে পাথরের বদলে ডাস্ট আনা হয়েছে। স্থলবন্দরে আটকে দেওয়া হয় ডাস্টগুলো। এতে প্রতিদিনই বন্দর কর্তৃপক্ষকে মাশুল বাবদ ৩৬ হাজার টাকা দিচ্ছে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান।

webnewsdesign.com

এ ব্যাপারে সিএন্ডএফ এজেন্ট খলিফা এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি মো. মোজাম্মেল হক জানান, আমরা যখন ২ মাস ১০ দিন আগে এলসির পুরো চালান ২হাজার ৭শত মেট্রিক টন গুরা পাথর আমদানি করি। আমদানির পর কাস্টমস থেকে আমাদেরকে জানানো হয় এই বন্দর দিয়ে এই পাথর আমদানির অনুমোদন নেই। এরপর থেকে কস্টমসের নানান জটিলতায় গুরা পাথর গুলো বন্দরে আটকে পরে যায়। পরবর্তীতে (এনবিআর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে প্রথম চালানের ৭শত ৭০ মেট্রিক টন গুরা পাথর খালাসের অনুমোদন দেওয়া হয়।  তারপরও আমাদের বন্দরে ১৯ শত ৩০ মেট্রিক টন গুরা পাথর রয়ে যাবে। যার জন্য আমাদেরকে ২ মাস ১০ দিনে বন্দর মাশুল দিতে হচ্ছে  ২১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা । এতে করে আমাদের অনেক আর্থিক লোকসান গুনতে হচ্ছে।

বিষয়ে জানতে চাইলে আখাউড়া স্থল শুল্ক স্টেশনের উপ-কমিশনার আবু হানিফ মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, চূর্ণপাথর আমদানির অনুমতি না থাকায় ছাড়পত্র দেয়া হয়নি। তবে চারলেন মহাসড়ক প্রকল্পের হওয়ায় এনবিআর বিশেষ ক্ষমতায় শর্তসাপেক্ষ ৭৭০ টনের ছাড়পত্র দিয়েছে। বাকিগুলোর জন্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান থেকে এনবিআরে আবেদন করেছে।

আখাউড়া স্থলবন্দরের সুপারিন্টেন্ডেন্ট মো. সামাউল ইসলাম জানান,২ হাজার ৭ শত মেট্রিক টন গুরা পাথরের মধ্যে ৭শত ৭০ মেট্রিক টন গুরা পাথর অনুমোদন পাওয়ায় স্থানীয়  সি এন্ড এফ এজেন্টের প্রতিনিধিরা সকাল থেকে খালাসের কার্যক্রম শুরু করেছে।  এতে করে ২ মাস ১০দিনে বন্দর মাশুল ফি আদায় হয়েছে ২১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা।

উল্লেখ্য, আমদানি হওয়া পাথরগুলো ভারতীয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এফকন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড প্রতি টন ১৩ মার্কিন ডলারে আমদানি করছে। স্থলবন্দরের সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট মেসার্স খলিফা এন্টারপ্রাইজ আমদানিকৃত পাথরের কাস্টমস ক্লিয়ারিংয়ের কাজ করছে পাথরগুলোর আমদানি শুল্ক প্রায় ৬৯ শতাংশ।


মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com