আপডেট

x

কসবা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ভুয়া মেডিকেল রিপোর্ট দেয়ার অভিযোগ

সোমবার, ২২ নভেম্বর ২০২১ | ৭:২৮ অপরাহ্ণ | 103 বার

কসবা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ভুয়া মেডিকেল রিপোর্ট দেয়ার অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় একটি সংঘর্ষের ঘটনায় এক পক্ষের লোকজনকে ভুয়া এক্সরে ও রিপোর্টের মাধ্যমে গ্রিভিয়াস ইনজুরি সনদপত্র দেয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. উম্মে সাবিহা’র বিরুদ্ধে । অপর পক্ষের অভিযোগ, বানানো রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে তাদের হয়রানী করতে এসব করছে প্রতিপক্ষ।


এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী আবু তাহের নামে এক ব্যক্তি ডা. সাবিহার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনের নিকট অভিযোগ পেশ করেছেন। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য নির্দেশ দিলেও ডা. সাবিহা কোন পদক্ষেপ না নিয়ে গত রবিবার সনদপত্র কসবা থানায় প্রেরণ করে আমার প্রতিপক্ষদের সহায়তা করার অভিযোগ রয়েছে বলে জানান হাজী আবু তাহের ।

webnewsdesign.com

ভুক্তভোগী হাজী আবু তাহের জানান, ডা. সাবিহা আমার প্রতিপক্ষ রবিউল্লাহর পক্ষ অবলম্বন করে এবং প্রভাবিত হয়ে তার ভাই রুবেল মিয়াকে মিথ্যা গ্রিভিয়াস ইনজুরি সদনপত্র দিয়ে সহায়তা করছেন।

জানা যায়, ওই সনদপত্রে সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের আঘাতে রুবেলের পা ভেংগে গেছে উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে ডা. উম্মে সাবিহা মুঠোফোনে বলেন, রোগীকে জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছিলো। সেখানে রোগীর চিকিৎসা হয়েছে। রোগী জেলা শহরের একটি প্রাইভেট ক্লিনিক থেকে এক্সরে করে ফিল্ম ও রিপোর্ট জমা দিয়েছে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত আমিসহ তিন সদস্য বিশিষ্ট বোর্ড রুবেল মিয়া নামে রোগীকে গ্রিভিয়াস ইনজুরি সনদ পত্র দিয়েছি। বিষয়টি আমার একক সিদ্ধান্ত নয়।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অরুপ পাল বলেন; কর্মরত চিকিৎসক ডা. সাবিহা যে সনদপত্র দিয়েছেন তা এক্স-রে ফিল্ম ও রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে। রোগী কোথা থেকে পরীক্ষা করিয়েছে সেটা সত্যি বা মিথ্যা সেটা ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তি ইচ্ছে করলে আদালতের মাধ্যমে প্রতিকার চাইতে পারেন। জেলা সিভিল সার্জন মহোদয় সনদ পত্র বিতরণ বন্ধ রাখার এমন কোনো নির্দেশ দেননি।


প্রসঙ্গত, সামাজিক বিরোধকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ নেতা রবিউল্লাহ ও একই গ্রামের শাহআলম গংদের মধ্যে গত ১৮ অক্টোবর সকালে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের লোকজনই আহত হয়। তবে এ ঘটনায় মারাত্মকভাবে কেহই আহত হয়নি বলে এ প্রতিবেদককে জানান,একই গ্রামের শাহীন আলম (২৭), নাজমুল হোসেন (২৮)। সংঘর্ষের বিষয়ে উভয় পক্ষই কসবা থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

কসবা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি মো. ইব্রাহীম জানান, আমার জানামতে প্রায় ৪ বছর আগে মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় রুবেল মিয়ার একটি পা ভেঙ্গেছিল। গত ১৮ অক্টোবরের সংঘর্ষে রুবেল শুধুমাত্র মাথায় সামান্য আঘাত পেয়েছিলো। সে পায়ে কোনা আঘাতপ্রাপ্ত হয়নি। একটি মহলের সহযোগিতায় ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে নেয়ার জন্য মিথ্যা সনদপত্রের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে হয়রানীর চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। আমরা চিকিৎসকের এহেন কর্মকান্ডে হতাশ হয়েছি।

এক্স-রের সত্যতার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যে প্রাইভেট ক্লিনিক থেকে রুবেল মিয়ার এক্স-রে করে রিপোর্ট আনার দাবী করা হয়েছে ওই ক্লিনিকের নাম আল খিদমাহ ডায়ানষ্টিক সেন্টার।

জেলা সদরে অবস্থিত আল খিদমাহ ডায়ানষ্টিক সেন্টারের ম্যানেজার মোহাম্মদ আসিফ’র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কসবার রুবেল মিয়া নামে কোনো রোগীর পায়ের এক্স-রে গত দু’মাসের মধ্যে আমাদের এখানে করা হয়নি।

এ বিষয়ে রুবেলকে মুঠোফোনে না পেয়ে তার ছোট ভাই মামলার বাদী রবিউল্লাহর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, হাজী আবু তাহের গংরা মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছেন এবং রটনা করছেন। ঘটনার দিনই আমার বড় ভাইয়ের পা ভাঙ্গা গিয়েছে।

কসবা থানা অফিসার ইচনার্জ মুহাম্মদ আলমগীর ভূইয়া বলেন, এ ঘটনায় উভয় পক্ষেরই মামলা চলমান রয়েছে। আইন অনুযায়ী আমাদের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তবে ইনজুরির বিষয়ে বা চিকিৎসকের সনদপত্র নিয়ে আমাদের কিছু বলার নেই। এটা চিকিৎসকের বিষয়।

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com