আপডেট

x

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা

দিন

ঘন্টা

মিনিট

সেকেন্ড

কসবায় পল্লী চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় প্রাণ গেল স্কুল ছাত্রের

শুক্রবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১১:৪৬ পিএম | 60 বার

কসবায় পল্লী চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় প্রাণ গেল স্কুল ছাত্রের
প্রতিকী ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় এক পল্লী চিকিৎসকের ভূল চিকিৎসায় আসাদুল্লাহ (৯) নামের এক স্কুল ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ওই পল্লী চিকিৎসক ও তার সহকারীর বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার রাতে কসবা থানায় মামলা রুজু করেছে নিহতের পরিবার।

নিহত আসাদুল্লাহ জেলার আখাউড়া উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের ধর্মনগর গ্রামের আল-আমিন মিয়ার ছেলে। সে কর্মমঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল।

পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে শুক্রবার সকালে ব্রা‏হ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের মিরতলা গ্রামের আবদুল নুর গোপীনাথপুর ইউনিয়নের গোসাইস্থল বাজারে পল্লী চিকিৎসক হিসাবে ঔষধের ব্যবসা করেন। গত বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকালে আসাদুল্লাহ খেলতে গিয়ে হাতে ব্যাথা পেলে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক আবদুল নুরকে দেখায় শিশুটি অভিভাবকরা। আঘাতপ্রাপ্ত হাতের এক্সরে করে দেখার পরামর্শ দেন ওই পল্লী চিকিৎসক। পল্লী চিকিৎসককে সাথে নিয়ে শিশুর বাবা আল আমিন কসবা উপজেলার সদরের একটি বে-সরকারি ক্লিনিক থেকে হাতের এক্সরে করেন। এ সময় দেখতে পান শিশুটির হাতের হাড় ফেটে গেছে। হাতের প্লাষ্টার করতে হবে। তখন আবদুল নুর আসাদুল্লাহর বাবাকে বলেন তিনি অনেক প্লাষ্টার করেছেন। এটিও তিনি করতে পারবেন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধায় গাসাইস্থল বাজার তার ঔষধের ফার্মেসীতে নিয়ে যায় শিশুটির অভিভাবকরা। এ সময় প্লাষ্টার করতে গিয়ে পরপর কয়েকটি ইনজেকশন পুশ করা হয় শিশুটিকে। এক পর্যায়ে শিশুটি ইনজেকশান পুশ না করতে বললেও ইনজেকশান পুশ করা হয়। ইনজেকশন পুশ করার কিছুক্ষনের মধ্যেই শিশুটির খিচুনী উঠে ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। টের পেয়ে পল্লী চিকিৎসক ও তার সহকারী জালাল মিয়া ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

নিহত আসাদুল্লাহ’র বাবা আল আমিন মিয়া বলেন, এক্সরে করে জানতে পারলাম আমার ছেলের হাত ভেঙে গেছে। ভাল হাড় বিশেষজ্ঞ দিয়ে প্লাষ্টার করার কথা বললে আবদুল নুর ডাক্তার বললেন তিনি প্লাষ্টার করতে পারবেন। তিনি নাকি আরাে অনেক প্লাষ্টার করেছেন। প্লাষ্টার করার জন্য দুটি ইনজেকশন দিয়েছে। আমার ছেলে ডাক্তারকে বলছে, আংকেল আমার হাত ব্যাথা করে না। আমাকে আর ইনজেকশন দিয়েন না। আমার বুক ধরফর করছে। তারপরও তিনি আরাে একটি ইনজেকশন দিয়েছেন। সাথে সাথে আমার ছেলে মারা গেছে বলেই হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন।

কসবা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাে. আশাদুল ইসলাম বলেন, পল্লী চিকিৎসকের ভূল চিকিৎসায় স্কুল ছাত্র আসাদুল্লাহ মারা গেছে। স্কুল ছাত্রটি মারা যাওয়ার পর থেকেই আবদুন নুর ও তার সহকারী জালাল মিয়া পালিয়ে গেছে। নিহতের লাশ প্রাথমিক সুরোতহাল করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রা‏হ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তাদেরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

অভিযুক্ত পল্লী চিকিৎসক আবদুল নুর এর মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায় নাই।

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com