এশিয়ায় বাড়ছে করোনা আক্রান্ত রোগী, মৃত্যু কমেছে ইউরোপে

রবিবার, ১০ মে ২০২০ | ৩:৩৬ পূর্বাহ্ণ | 82 বার

এশিয়ায় বাড়ছে করোনা আক্রান্ত রোগী, মৃত্যু কমেছে ইউরোপে

এশিয়ায় হু হু করে বেড়েই চলেছে করোনায় ভাইরাসের সংক্রমণ আর ইউরোপে কমছে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুহার। মহামারী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন হাজারও নতুন রোগী যোগ হচ্ছে এ মহাদেশের বিভিন্ন দেশে। ফলে দুর্বল চিকিৎসা সেবার দেশগুলো করোনা নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে।

ইতোমধ্যে এশিয়ার ৪৯টি দেশ ও অঞ্চলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৬ লাখ ৬২ হাজারের বেশি মানুষ। মারা গেছেন সাড়ে ২১ হাজার। অপরদিকে পরিস্থিতি ভালোর দিকে যাওয়ায় ইউরোপের অনেক দেশ ইতোমধ্যে লকডাউন শিথিল করেছে। অনেকে কড়াকড়ি তুলে নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এদিকে বিশ্বজুড়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৪০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমিত হয়েছেন ৯৭ হাজারের বেশি মানুষ, যা আগের দিন ছিল ৯৬ হাজারের ওপরে। বিশ্বে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২ লাখ ৭৬ হাজার, এরমধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন সাড়ে ৫ হাজার। খবর বিবিসি, এএফপি ও রয়টার্সসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের।


বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাতে ওয়ার্ল্ডওমিটারসের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৪০ লাখ ৩৮ হাজার ৭৮৫ জন। মারা গেছেন ২ লাখ ৭৬ হাজার ৮৮৪ জন। অবস্থা আশঙ্কাজনক ৪৮ হাজার ১১৪ জনের। সুস্থ হয়েছেন ১৪ লাখ ২ হাজার ৭১৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ৯৭ হাজার ১২৮ জন, মারা গেছে ৫ হাজার ৫৫০, যা আগের ২৪ ঘণ্টায় ছিল ৫ হাজার ৫৮৯।

যুক্তরাষ্ট্রে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ১ হাজার ৬৮৭ জন। দেশটিতে মোট আক্রান্ত ১৩ লাখ ২২ হাজার ২২৩ জন, মৃত্যু হয়েছে ৭৮ হাজার ৬২২ জনের। স্পেনে মোট আক্রান্ত ২ লাখ ৬২ হাজার ৭৮৩ জন, মারা গেছেন ২৬ হাজার ৪৭৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে ২২৯ জনের। ইতালিতে মোট আক্রান্ত ২ লাখ ১৭ হাজার ১৮৫, মারা গেছেন ৩০ হাজার ২০১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে ২৪৩ জনের। যুক্তরাজ্যে মোট আক্রান্ত ২ লাখ ১১ হাজার ৩৬৪ জন, মারা গেছেন ৩১ হাজার ২৪১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে ৬২৬ জনের। ফ্রান্সে মোট আক্রান্ত ১ লাখ ৭৬ হাজার ৭৯ জন, মারা গেছেন ২৬ হাজার ২৩০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে ২৪৩ জনের। রাশিয়ায় মোট আক্রান্ত ১ লাখ ৯৮ হাজার ৬৭৬ জন, মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৮২৭ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৯৮ জনের।

ইউরোপে সবার আগে লকডাউনে গিয়েছিল ইতালি। আবার পরিস্থিতি উন্নতির দিকে যাওয়ায় সবার আগে কাজেও ফিরল তারা। গত সপ্তাহ থেকে দেশটিতে কাজে ফিরতে শুরু করেছে নির্মাণ আর কারখানা শ্রমিকরা। খুলে দেয়া হয়েছে পার্ক, রেস্তোরাঁ আর পাইকারি দোকানও। ফ্রান্সে আগামীকাল সোমবার থেকে শর্তসাপেক্ষে লকডাউন শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যাডওয়ার্ড ফিলিপ জানিয়েছেন, এখন থেকে ঘরের বাইরে বের হতে হলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে ১৩৫ ইউরো জরিমানা করা হবে। জার্মানির ৮৪ শতাংশের বেশি করোনা আক্রান্ত রোগী এখন পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এছাড়া দেশটিতে করোনা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় লকডাউনের কড়াকড়ি কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। স্পেনে সংক্রমণ ও মৃত্যুহার কমে আসায় লকডাউন শিথিল করেছে দেশটি। বেলজিয়ামে বেশিরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আগামীকাল সোমবার থেকে খুলে দেয়া হবে।

ওয়ার্ল্ডওমিটারসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এক সপ্তাহ আগে (২ মে) ভারতে মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৩৭ হাজার ৩৩৬, এখন তা ৫৯ হাজার ছাড়িয়েছে। ওই সময় পাকিস্তানে ছিল ১৮ হাজার ১১৪, এখন তা ২৭ হাজারের বেশি। ফিলিপাইনে ছিল ৯ হাজার, এখন ১০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। ইন্দোনেশিয়ায় ছিল প্রায় ১০ হাজার, এখন ১৩ হাজার পেরিয়ে গেছে। আফগানিস্তানে ছিল ২ হাজার ১৭১, এখন রোগী ৪ হাজার ছুঁইছুঁই। বর্তমানে এশিয়ার ৪৯টি দেশ ও অঞ্চলে করোনা ছড়িয়ে পড়েছে। এসব দেশ ও অঞ্চলে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬ লাখ ৬২ হাজার ১৬৩ জন। মৃত্যু হয়েছে ২১ হাজার ৬১৮ জনের। এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে তুরস্ক ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫৬৯ জন, ইরান ১ লাখ ৬ হাজার ২২০, চীনে ৮২ হাজার ৮৮৭, ভারতে ৫৯ হাজার ৮৮১, সৌদি আরবে ৩৫ হাজার ৪৩২, পাকিস্তানে ২৭ হাজার ৪৭৪, সিঙ্গাপুরে ২২ হাজার ৪৬০ জন। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ইরানে ৬ হাজার ৫৮৯ জন, তারপর চীনে ৪ হাজার ৬৩৩ জন।

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com