আপডেট

x

এবার হজ যাত্রীদের দিতে হবে ২২ হাজার টাকা বেশি বিমান ভাড়া

বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১০:৪২ অপরাহ্ণ | 189 বার

এবার হজ যাত্রীদের দিতে হবে ২২ হাজার টাকা বেশি বিমান ভাড়া
প্রতিকী ছবি

আগামী হজে বাংলাদেশী যাত্রীদের বিমান ভাড়া প্রায় সাড়ে ২২ হাজার টাকা বেশি দিতে হতে পারে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস আগামী হজের সময় বিমান ভাড়া নির্ধারণ করেছে ১ লাখ ৫০ হাজার ৪৯৪ টাকা, যা চলতি বছর ছিল ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা। বিমান গত ১ ডিসেম্বর ঢাকা-জেদ্দা ও মদিনা-ঢাকা রুটের ভাড়া নির্ধারণ করে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। বিমানের কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ তথ্য জানিয়েছেন।


বিমান কর্মকর্তারা জানান, সব ধরনের করসহ বিমান ভাড়া ১ লাখ ৫০ হাজার ৪৯৪ টাকা। এর মধ্যে নেট ভাড়া ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৮৬ টাকা, এজেন্টের কমিশন ২ হাজার ১০৬ টাকা, এম্বারকেশন ফি ৫০০ টাকা ও আবগারি কর ২ হাজার টাকা। এছাড়া বিল্ডিং চার্জ, হজ টার্মিনাল সার্ভিস চার্জ ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা চার্জ রয়েছে। তারা আরও জানান, ১ মার্কিন ডলারের সঙ্গে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় মূল্য ৮৪ টাকা ২৫ পয়সা ধরে এ ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। হজের আগে ডলারের বিনিময় হার পরিবর্তন হলে ভাড়া কমবেশি হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশ থেকে ২০২০ সালে হজে যাবে অতিরিক্ত ১০হাজার হাজী  

হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি এম শাহাদাৎ হোসাইন তাসলিম বলেন, ‘বিমান যে ভাড়া নির্ধারণ করেছে তা যৌক্তিক নয়। বিমান ইচ্ছামতো ভাড়া বাড়াতে পারে না। এত ভাড়া বাড়ালে তা হজযাত্রীদের ওপর চাপ বাড়বে। চলতি বছর বিমান ভাড়া ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা ছিল।

এবার ভাড়া আরও কমতে পারে বা সর্বোচ্চ ওই ভাড়াটাই থাকতে পারে। বছরের অন্যান্য সময় ওমরাহ যাত্রীদের যাওয়া-আসার বিমান ভাড়া সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার টাকা। তাহলে হজযাত্রীদের ভাড়া এত বেশি হবে কেন? বিমান যুক্তি দেখাবে হজের সময় বিমান যাত্রী নিয়ে সৌদি আরব গেলেও ফিরতে হবে খালি বিমান নিয়ে। আবার সৌদি আরব থেকে হজযাত্রী ফেরত আনার সময় বাংলাদেশ থেকে খালি উড়োজাহাজ নিয়ে যেতে হয়। তারপরও তো দেড় লাখ টাকা ভাড়া হতে পারে না। অন্যান্য সময় বিমান যাত্রী দিয়ে উড়োজাহাজ পূর্ণ করে যাওয়া-আসা করে না। ২০ থেকে ৩০ ভাগ সিট খালি থাকে। সেই হিসাবে বিমান ভাড়া কোনোভাবেই বাড়তে পারে না। হজের সময় সর্বোচ্চ বিমান ভাড়া হওয়া উচিত ১ লাখ থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মুহিবুল হক বলেন, ‘বিমান আগামী বছরের হজযাত্রীদের একটা ভাড়া নির্ধারণ করেছে। সেটাই চূড়ান্ত নয়। হজ প্যাকেজ ঘোষণা করে ধর্ম মন্ত্রণালয়। তাদের সঙ্গে ও এ সংক্রান্ত অংশীজনের সঙ্গে বৈঠক করে বিমান ভাড়া নির্ধারণ করা হবে। ’

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী বছর জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে হজ হবে। গত হজে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার জন গেছেন। সৌদি সরকার আগামী বছর হজের জন্য বাংলাদেশিদের কোটা আরও ১০ হাজার বাড়িয়েছে। ফলে হজ করার সুযোগ পাবেন মোট ১ লাখ ৩৭ হাজার বাংলাদেশি। গত ৫ ডিসেম্বর মক্কায় সৌদি হজ মন্ত্রণালয়ে ২০২০ সালের হজ চুক্তি অনুষ্ঠানে এ সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহকে জানান সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহমন্ত্রী সালেহ বিন তাহের বেনতেন। চুক্তিতে আরও যেসব বিষয় রয়েছে তা হলো– রুট টু মক্কা ইনিশিয়েটিভের আওতায় শতভাগ হজযাত্রীর ইমিগ্রেশন হবে ঢাকায়। হাজিদের ভোগান্তি কমাতে মদিনায় ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানো হবে। বিমান বাংলাদেশ এবং সৌদি এয়ারলাইনস ৫০ ভাগ করে হজযাত্রী পরিবহন করবে। বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলোর সর্বনিম্ন ১০০ হজযাত্রী পাঠানোর বিধান অব্যাহত থাকবে। হাজিদের পরিবহন সুবিধা বাড়ানো ও মিনায় উন্নত বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।


বিমান ভাড়ার ওপর ভিত্তি করে ধর্ম মন্ত্রণালয় হজ প্যাকেজ নির্ধারণ করে। সরকারের বেঁধে দেওয়া মূল্যের ওপর ভিত্তি করে বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলো তাদের নিজস্ব হজ প্যাকেজ ঘোষণা করে।

সূত্র-দেশ রূপান্তর

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com