উপজেলা নির্বাচনে উৎসাহ তৃণমূলে, অংশ নেওয়ার বিষয়ে “চুপ” বিএনপি

শুক্রবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ |

উপজেলা নির্বাচনে উৎসাহ তৃণমূলে, অংশ নেওয়ার বিষয়ে “চুপ” বিএনপি
Spread the love

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিবে না এমন এখনও ঘোষণা করেনি বিএনপি। সূত্র বলছে, এই নির্বাচনে অংশ নেয়া বা না নেয়ার প্রশ্নে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক লাভ-ক্ষতি হিসাব কষছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা। এদিকে নির্বাচন কমিশন উপজেলা নির্বাচনকে সহজ ও গ্রহণযোগ্য করতে কাজ করে যাচ্ছে। উপজেলা নির্বাচনের আচরণবিধিতে কিছু কিছু অসঙ্গতি ও অস্পষ্টতা রয়েছে উল্লেখ করে তারা বলছে, সেগুলোও সংশোধনের জন্য পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতির মধ্যে বিএনপির তৃণমূল নির্বাচনে আগ্রহী হলেও দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করছে কর্মীরা।

এবার আওয়ামী লীগ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন দলীয়ভাবে না করার ঘোষণা দিয়েছে। ফলে এ নির্বাচনে ‘নৌকা’ প্রতীকে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী থাকছে না। তাতে স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচনে সরকারি দলের ‘একতরফা’ প্রভাব কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর নির্বাচনে ভালো করার সম্ভাবনা দেখছেন অনেকে।

webnewsdesign.com

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলছেন, বিএনপি শুধু নির্বাচনমুখী দলই নয়, এ দলের ভিত্তিই হলো জনগণ ও সুষ্ঠু ভোট। কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জনের কারণে তারা এখন কী করবে তা ঠিক করতে পারছে না। হাতে কিছু সময় আছে। নির্বাচনে ঢুকতে কী করা যায় তা নিয়ে ভাবছে দলটি।

বিএনপির তৃণমূলের নেতারা বলছেন, কোথাও না কোথাও থেকে শুরু করতে হবে। সেদিক থেকে তারা চান দল তাদেরকে নির্বাচন করার নির্দেশ দিক। তা না হলে এলাকায় অস্তিত্ব হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কা আছে।

বিএনপির আশ্বস্ত হওয়ার বেশকিছু কারণ আছে উল্লেখ করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এখন আর দেরি করার সময় নেই। অনেকগুলো ট্রেন মিস করেছে দলটি। আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সব ঢেলে সাজানোর প্রথম ধাপ হিসেবে তারা উপজেলা নির্বাচনকে নিতে পারে।

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চেয়ে ভালো হবে বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আলমগীর। বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আগাঁরগাওয়ে নির্বাচন ভবনে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। মো. আলমগীর বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেভাবে করেছি উপজেলা নির্বাচন তার চেয়েও ভালোভাবে করবো। কারণ, জাতীয় নির্বাচন একদিনে একসঙ্গে ৩০০ আসনে করতে হয়েছে। আমাদের ৩০০ জায়গায় একসঙ্গে এফোর্ট দিতে হয়েছে। উপজেলা নির্বাচন কমপক্ষে চার ধাপে করবো। প্রতিটি ধাপে ১০০ বা এর কাছাকাছি উপজেলায় ভোট হবে। সেক্ষেত্রে আমাদের এফোর্ট আরও বেশি থাকবে।

তিনি বলেন, আমরা আশাকরি উপজেলা নির্বাচন অত্যন্ত সুষ্ঠু হবে। ইতিহাস বলে- স্থানীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশি হয়। স্থানীয় পর্যায়ে অনেকের অংশগ্রহণ থাকে। যে কারণে ভোটের মাঠে অটোমেটিক ব্যালেন্স তৈরি হয়। সেখানে আমরা এফোর্ট দিলে ভোটও সুষ্ঠু হবে বলে মনে করি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুভাষ সিংহ রায় মনে করেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেয়ার মধ্য দিয়ে বিএনপি তার ইমেজ পুনরুদ্ধার ও তৃণমুল নেতৃত্বকে সক্রিয় করতে পারবে। তারা একটার পর একটা অভিযোগ তুলে মিথ্যা প্রমাণ করেছেন নিজেদেরকে। সর্বশেষ সংসদ নির্বাচন নিয়ে তারা কমিশনের বিরুদ্ধে বেশকিছু অভিযোগ এনেছিলো কিন্তু সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ায় তারা কমিশনের বিরুদ্ধে কথা বলার জায়গাও হারিয়েছে।

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com