আপডেট

x

ইউরোপে এসে বাংলাদেশি হাজারো তরুণের স্বপ্নভঙ্গ

রবিবার, ১৫ মে ২০২২ | ১০:০৯ অপরাহ্ণ | 80 বার

ইউরোপে এসে বাংলাদেশি হাজারো তরুণের স্বপ্নভঙ্গ

ইউরোপে পাড়ি জমিয়ে এখন হাজারো তরুণের স্বপ্নভঙ্গ। বাংলাদেশী মধ্যবিত্ত তরুণদের কাছে লন্ডন-ইউরোপ, আমেরিকা যাওয়াটা সবসময়ই এক সোনার হরিণ। এই সোনার হরিণের পেছনে কম-বেশি ছোটেননি কিংবা আশা করেননি এমন তরুণ বা যুবকদের সংখ্যা কম নয়। লন্ডন-ইউরোপ, আমেরিকা সবার কাছেই এ এক স্বপ্নের সুন্দর ঠিকানা। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে স্টুডেন্ট ভিসা এবং হোম কেয়ার ভিসায়  প্রচুর তরুণ-তরুণী আসছেন লন্ডনে।


সিলেট থেকে আসা ফাহাদ নামের এক তরুণ বলেন, যে স্বপ্ন নিয়ে লন্ডনে এসেছিলাম আসার পর সেটা দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে বিয়ে করে স্থায়ী হওয়ার কথা ছিল খালাতো বোনকে। কিন্তু এখানে এসে এখানের কালচার অনুযায়ী ২৫ হাজার পাউন্ড খালাতো বোনের ব্যাংক একাউন্টে জমা দিতে হয়। কিন্তু সেই সামর্থ্য আমার নেই এবং বিয়ে করার স্বপ্ন বাদ দিয়ে এখন রেস্টুরেন্টে কাজ করছি এবং টাকা উপার্জন করছি কি করে ইউনিভার্সিটির ফি দিয়ে ভিসা এক্সটেনশন করা যায় বা বৈধ থাকা যায় সেই পথেই হাঁটছেন।

webnewsdesign.com

কথা হয় ঢাকা থেকে আসা আরেকজন ছাত্রী অনন্যা বলেন, এখানে আসার পর যে স্বপ্ন নিয়ে এসেছিলাম সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা অনেক কঠিন। কাজ করে ইউনিভার্সিটির ফ্রি দেয়া অসম্ভব তার পক্ষে। তাই ভাবছেন একটা ভালো সিটিজেনশিপ ছেলে পেলে তিনি বিয়ে করে এখানে স্থায়ী হবেন।

বৃটেনের পরিসংখ্যান বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-২০১৯ সাল থেকে ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৬৪৫ জন বিদেশি শিক্ষার্থী বৃটেনে অধ্যয়নে এসেছেন। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বহির্ভূত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ৪৩ হাজার ২৫ জন। ২০২০ সালের ‘টিয়ার ফোর স্টুডেন্ট’ ভিসায় কিছু পরিবর্তন আনার পর বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বৃটেন গমন বেড়েছে।

করোনাকালেও বাংলাদেশ থেকে স্টুডেন্ট ভিসায় বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী এসেছেন। ইউরোপের বিভিন্ন দেশেই এখন বেশ বড় সংখ্যায় বাংলাদেশি অভিবাসী বসবাস করছেন। গত দু দশকে ইতালি, জার্মানি, ফ্রান্স, গ্রিস, অস্ট্রিয়া, স্পেন বা পর্তুগালে বেশ বড় বাংলাদেশি কমিউনিটি গড়ে উঠেছে।

মৌলভীবাজারের ছেলে সাইমন প্রায় ১০ বছর আগে লন্ডন এসেছিলেন। সাইমন জানান, তাঁর দীর্ঘ ১২ বৎসরের ইউরোপ জীবনে যে কষ্টে তিনি সফলতা অর্জন করেছেন বা স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করেছেন সেই স্বপ্ন পূরণ করতে তিনি লন্ডনে বিয়ে না করে দেশি একটি মেয়েকে বিয়ে করতে দেশে যাচ্ছেন।


নোয়াখালী থেকে সুমন আসছেন ফ্রান্সে বৈধ হওয়ার জন্য। কিন্তু এখানে যে বৈধ হওয়ার প্রক্রিয়া সেই প্রক্রিয়ায় তিনি বৈধ হতে পারেননি। তারপর শরণাপন্ন হন একটি মেয়েকে বিয়ে করে বৈধ হবেন। কিছুদিন পর সেই মেয়েটির সাথে সম্পর্ক ঠিক থাকলেও একটা সময় ভেঙে যায়। এতে করে তার বৈধ হওয়ার স্বপ্ন ভেঙে খান খান হয়ে যায়। শেষমেশ অনেক কষ্ট করে কিছু টাকা জোগাড় করেছেন। এখন পর্তুগালে গিয়ে বৈধ হওয়ার জন্য চেষ্টা করবেন। ফ্রান্স, গ্রিস, ইতালি, পোল্যান্ড, পর্তুগালে অনেক তরুণ যুবক আছে যারা স্বপ্ন নিয়ে এসেছে কিন্তু এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে তাদের প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করতে হয়। যুদ্ধ করে যখন সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে তখন তাদের বাংলাদেশি একটা পাসপোর্টের প্রয়োজন হয়। কিন্তু সেই পাসপোর্টটি সময়মতো না পাওয়ায় আবারো তাদের  বৈধ  হওয়ার স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।

বলা সঙ্গত, অনেকে অসাধুদের খপ্পরে পড়ে বিপজ্জনক পথে পা বাড়ান। মানুষের সরল স্বপ্নকে পুঁজি করেই নিজেদের স্বার্থে অন্ধ হয়ে উঠে দালাল ও পাচারকারীরা। স্বপ্ন পূরণের প্রলোভন দেখিয়ে হত্যাকারীর মতো মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। এ রকম কত মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন তার সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। অবৈধভাবে ইউরোপ, আমেরিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমাতে গিয়ে সাগরে নৌকাডুবিতে মৃত্যু কিংবা সাগরে দিনের পর দিন ভেসে বেড়ানোর খবর প্রায়ই গণমাধ্যমে আসে। তাদের অনেকেই বাংলাদেশি। খাবার আর নিরাপদ পানির অভাবে তাদের সাগর কিংবা বিদেশের জঙ্গলে অবর্ণনীয় কষ্টে দিন কাটানোর খবরও পাওয়া যায়। কারো ঠাঁই হয় বিদেশের অভিবাসী কেন্দ্র বা কারাগারে।

সূত্র: মানবজমিন 

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com