আপডেট

x

ইউপি মেম্বারের দাপট: পাওনা টাকা চাওয়ায় দোকান পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ

বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২০ | ৬:১০ অপরাহ্ণ | 366 বার

ইউপি মেম্বারের দাপট: পাওনা টাকা চাওয়ায় দোকান পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে দোকানে অগ্নি সংযোগের ছাই হয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্থানীয় এক ইউপি সদস্য ও তার পরিবার। শুধু তা ই নয়, ভুক্তভোগীদের ভুয়া মামলায় জেলে পাঠানোর অভিযোগ করেছেন তারা৷ ওই পরিবার গুলো চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। আগুনে পুরানোর ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত আট মাস আগে উপজেলার মুকুন্দপুরের সেজামুড়ার ইউপি সদস্য বাছিরের বাতিজা রাশেদ একই এলাকার মিন্টুর কাছ থেকে ২০হাজার টাকা ধার নেন। প্রায় তিন মাস আগে এই ২০হাজার টাকা রাশেদের কাছে ফেরত চান মিন্টু। এনিয়ে দুইজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়, এসময় মতো মিন্টু ভাই নুরু ঝগড়া করতে বাধাঁ দেন। এরপর রাশেদ বাড়িতে ফিরে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর তার চাচা বাছির মেম্বারের নেতৃত্বে টাকা পাওনাদার মিন্টুর বাড়িরে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিতে হামলা করে। এই ঘটনা পরে শালিসি করে আপোষ-মিমাংসা করা হয়। আপোষ মিমাংসা করা হলেও মিন্টুর বাড়ির লোকজনকে রাস্তাঘাটে উত্ত্যক্ত করে চলছিল ইউপি সদস্য বাছির ও তার বাতিজা রাশেদের লোকজন।এরই জেরে ঈদের দুইদিন আগে ইউপি সদস্য বাছির দেশী অস্ত্রসস্ত্র জমায়েত করে মিন্টুর বাড়িতে হামলা করতে। এই খবর পেয়ে পুলিশ বাছির মেম্বারের বাড়ি থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এর একদিন পর পুলিশ মিন্টুর ভাই মুদিমালের দোকানদার নূরুকে আটক করে নিয়ে যায়। দোকানদার নুরু জেলে থাকা অবস্থায় ঈদুল ফিতরের মধ্যরাতে তার দোকানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটা ঘটে। এতে পুড়ে ছাই হয়ে যায় তার দোকান। নূরু ও মিন্টুর পরিবারের সদস্যদের দাবী, দোকানে গ্যাস সিলিন্ডার সহ প্রায় ৪লক্ষ টাকা মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

মিন্টু ও নুরুর মা দাবি করে বলেন, দোকানে অগ্নিসংযোগ করেছে বাছির মেম্বারের বাড়ির লোকজন। আমরা আতংকে আছি। ঘর থেকে বের হলেই তাদের হামলার শংকায় থাকি।

তাসলিমা বেগম নামের এক নারী বলেন, মিন্টু ও নুরু হচ্ছে আমার মামার বাড়ির। আমার ছেলের নাম নূরুল ইসলাম। সে নাকি মিন্টুদের পক্ষ নিয়েছে, তাই স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির আহম্মদ নামের এক দারোগা টাকা খেয়ে আমার ছেলেকে ধরে নিয়ে মামলায় ঢুকিয়ে দিয়েছে। সেই দারোগাকে কারণ জিজ্ঞেস করলে, তিনি আমাকে মারতে তেরে আসেন।

এই বিষয়ে উপজেলার আওলিয়া বাজার ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আহম্মদ বলেন, এই ঘটনার কিছুই আমি জানি না। আমার উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানেন।

এই ঘটনায় বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত স্থানীয় ইউপি সদস্য বাছিরের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।


বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, দুইপক্ষের মধ্যে পূর্ব বিরোধ ছিল। মারপিটের ঘটনায় একপক্ষ মামলা দেওয়া ৪জনকে আটক করা হয়েছে। সম্প্রতি দুইপক্ষের লোকজন সংঘর্ষের প্রস্তুতি নেওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে। তিনি আরও জানান, একটি দোকান আগুনের পুড়ানোর বিষয়ে অভিযোগ থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত শেষে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com