আখাউড়ায় শেয়াল জবাই করে কয়েক পরিবারে মাংস ভাগাভাগি

মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২ | ৮:৩৮ অপরাহ্ণ | 37 বার

আখাউড়ায় শেয়াল জবাই করে কয়েক পরিবারে মাংস ভাগাভাগি
ফাইল ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় প্রকাশ্যে শিয়াল জবাই করে মাংস বিক্রি ও ভাগবাটোয়ারা করার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তন্তর বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা অবস্থায় একটি শেয়াল উদ্ধার করে। তবে এর আগেই স্থানীয় ছতুরা শরীফ গ্রামের কয়েকটি পরিবারের লোকজন একটি শিয়াল জবাই করে মাংস ও ভাগবাটোয়ারা করে নেন।


স্থানীয় লোকজনের বরাত দিয়ে ধরখার ফাঁড়ি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হুমায়ুন কবির জানান, মঙ্গলবার দুপুরে ছতুরা শরীফ গ্রামের জনৈক ব্যক্তির বেগুনক্ষেত থেকে দুটি শিয়াল আটক করে। এ সময় কসবা উপজেলার বাদৈর গ্রামের সিএনজি অটোরিকশা চালক আসলাম ও ফোরকান ওই গ্রামের কিছু লোকজন নিয়ে তন্তরবাজার এলাকায় একটি শিয়াল জবাই করে মাংস ভাগবাটোয়ারা ও কিছু মাংস বিক্রি করেন। এ সময় ঘটনাটি পুরো এলাকায় জানাজানি হয়ে যায়।

webnewsdesign.com

এ ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই দড়িতে বাঁধা অবস্থায় অপর জীবিত শিয়ালটি ফেলে ওরা পালিয়ে যায়। পরে জীবিত শিয়ালটি বাঁধন খোলে পাশের জঙ্গলে অবমুক্ত করে পুলিশ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ক্রেতা জানান, মাংস বিক্রেতা আসলাম বলেছিলেন, বাত-ব্যাথা কিংবা কঠিন রোগের প্রতিষেধক হিসেবে শিয়ালের মাংস রান্না করে খাওয়ার বিকল্প নেই। এসব ক্ষেত্রে শিয়ালের মাংস অব্যর্থ ওষুধ। তার সে কথা বিশ্বাস করে অনেকেই শিয়ালের মাংস কিনে নেন। মানুষের বিশ্বাস করাতে পাশেই রাখা হয়েছিল শিয়ালের কাটা মাথা। অপর জীবিত শিলালটিও জবাইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিল তারা। পুলিশের কারণে রক্ষা হয়।

আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোমানা আক্তার বলেন বন্যপ্রাণী জবাই করে মাংস বিক্রি করা আইনত দ-নীয় অপরাধ। শিয়াল ও অন্যান্য বন্য প্রাণী প্রকৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ, যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. একরামউল্লাহ বলেন, শেয়ালের মাংস কোন রোগের ঔষধ হতে পারে, এর কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।


মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com