আখাউড়ায় পানিতে ২৫ গ্রাম প্লাবিত, সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ২৮পরিবারকে

শনিবার, ১৮ জুন ২০২২ | ১১:১২ অপরাহ্ণ | 47 বার

আখাউড়ায় পানিতে ২৫ গ্রাম প্লাবিত, সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ২৮পরিবারকে
আখাউড়া পানি তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাধঁ পরিদর্শনে যান জেলা প্রশাসক মো. শাহগীর আলম। ছবি: সরোদ

অতিবর্ষণের ফলে ভারতীয় পাহাড়ি ঢলের পানির তোড়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলা এলাকায় হাওড়া নদীর বাঁধ ভাঙায় সীমান্তবর্তী চারটি ইউনিয়নের অন্তত ২৫টি গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ২৮টি পরিবারকে সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দুপুরে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মো. শাহগীর আলম। শনিবার ১৮ জুন) ভোরে উপজেলার সীমান্তবর্তী মনিয়ন্দ ইউনিয়নের কর্নেল বাজার সংলগ্ন আইড়ল এলাকায় হাওড়া নদীর বাঁধ ভাঙ্গার ঘটনা ঘটে।


মনিয়ন্দ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান দীপক চৌধুরী জানান, ভারত থেকে আসা পানির তোড়ে বাঁধ সংলগ্ন পীচ ঢালাই সড়কও ভেসে গেছে। এর ফলে এই ইউনিয়নের আইড়ল, ইটনা, খারকুট, বড় লৌহঘর, ছোট লৌহঘর ও বড় গাঙ্গাইল গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া সীমান্তঘেঁষা মোগড়া ও আখাউড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের আখাউড়া-আগরতলা সড়কের দুপাশের কালিকাপুর, বীরচন্দ্রপুর, আবদুল্লাহপুর, বঙ্গেরচর, রহিমপুর, সাহেবনগর, খলাপাড়া, উমেদপুর, সেনারবাদী, কুসুমবাড়ি, আওড়ারচর, ছয়ঘরিয়া, বাউতলা, দরুইন, বচিয়ারা, নিলাখাদ, নোয়াপাড়া, টানুয়াপাড়া, ধাতুর পহেলা, চরনারায়ণপুর ও আদমপুর গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

webnewsdesign.com

এই ঘটনায় সীমান্তবর্তী এসব গ্রামের পরিবার গুলো বিপাকে পড়েছেন। গ্রামগুলোর নিচু বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে অনেক মানুষ। দ্রুত এই ভাঙ্গা বাঁধ মেরামত করতে না পারলে গোটা এলাকা প্লাবিত হয়ে যাবার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

এদিকে, কালন্দি খাল দিয়ে ত্রিপুরা থেকে আসা বৃষ্টি ও ঢলের পানিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট কার্যালয় ও কাস্টমস হাউজ। এতে আখাউড়া-আগরতলা সড়কের বন্দর এলাকায় কিছু অংশে পানি উঠেছে। আখাউড়া স্থলবন্দর এলাকায় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও আমদানি আমদানি-রপ্তানিকারক বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে। এরফলে আমদানি-রপ্তানি কিছুটা বিঘ্নিত হয়।

দুপুরে বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক মো. শাহগীর আলম ভাঙ্গন এলাকাসহ পানিতে তলিয়ে যাওয়া গ্রামগুলো পরিদর্শন করেছেন। এসময় তার সাথে ছিলেন আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  (ইউএনও) অংগ্যজাই মারমা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান ও সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানগণ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মো. শাহগীর আলম জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ২৮টি পরিবারকে উদ্ধার করে স্থানীয় আব্দুল্লাহপুর স্কুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রত্যেক পরিবারকে ৩০কেজি করে চাল ও দেড় হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের তালিকার কাজ চলছে। সেই অনুযায়ী আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করে যাব।


তিনি আরও জানান, যে বাধঁটি ভেঙে গেছে তা পানি উন্নয়ন বোর্ডের, আর যে সড়কটি ভেঙেছে তা এলজিইডি’র। আমি পরিদর্শনের সময় পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলজিইডি বিভাগের প্রকৌশলী ছিলেন। পানির স্রোত কমে গেলে সেখানে সিসি বাধঁ করা হবে এবং এলজিইডি জরুরি তহবিল থেকে সড়কটি তৈরি করবে।

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com