আপডেট

x

আওয়ামী লীগের সভাপতির কাছে অসহায় ইউপি চেয়ারম্যান! (ভিডিও)

রবিবার, ২৮ জুন ২০২০ | ৩:৩৭ পূর্বাহ্ণ | 459 বার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার অরুয়াইল বাজারের সরকারি জায়গা ও স্থাপনা অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে না পারায় নিজের অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও জাপা নেতা মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমি জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী হয়ে জনগণের ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। আমি জাতীয় পার্টির ইউপি চেয়ারম্যান, এটাই আমার দূর্বলতা।’


অরুয়াইল ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে তার কার্যালয়ে গত বুধবার সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ইউপি চেয়ারম্যান একথা বলেন। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় আওয়ামীলীগের সভাপতি ও বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাজী আবু তালেব মিয়ার দিকে অবৈধ দখল সহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের তুলে ধরেন।

এসময় চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া অভিযোগ করে বলেন, অরুয়াইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী আবু তালেব মিয়া এখানে বাজারের পাশে ও তিতাস নদীর তীরে প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি জমি অবৈধ দখলের পর সেখানে ‘স’মিল ও ডক ইয়ার্ড নির্মাণ করেছেন।

বাজারের গণশৌচাগার (পাবলিক টয়লেট) পর্যন্ত এই আওয়ামী লীগ নেতা বিক্রি করে অন্যকে দখল দিয়ে টাকা কামিয়ে নিয়েছেন। বাজার এলাকায় তিতাস নদীর পাড়ে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ৫৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে গণঘাটলা ও শেড নির্মাণ করা হয়েছিল। এই আওয়ামী লীগ নেতা কিছু অসাধু ভূমি অফিসারকে ম্যানেজ করে সেই সরকারি জায়গা পেরিফেরি করিয়ে একসনা বন্দোবস্ত লিজ বিভিন্ন লোকের নামে এনে দিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

তিনি বলেন, সেই গণঘাটলার উপর বালু ফেলে ভরাট করে সেখানে দোকান ভিটি নির্মাণ করা হয়েছে। তিতাস নদীর জায়গা দখলে নিয়ে এই আওয়ামী লীগ নেতা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়েছেন। এছাড়াও তিনি অরুয়াইল বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় করোনা পরিস্থিতিতে ত্রাণ দেওয়ার নামে অসংখ্য ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাঁদা তুলে লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এখানে সকল অবৈধ দখলের নেপথ্যে রয়েছে এই আওয়ামী লীগ নেতা আবু তালেব। ইতোমধ্যে বাজারের ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীসহ এখানকার আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতারা আবু তালেবের বিরুদ্ধে প্রশাসনে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, তিনি (আবু তালেব) এখানে আওয়ামী লীগের সভাপতি, আর আমি জাতীয় পার্টির ইউপি চেয়ারম্যান। তার এসব দখলবাজি ও জনহিতকর কার্যে আমি চেয়ারম্যান হিসেবে বাধা দিয়ে কুলিয়ে উঠতে পারছি না। আবু তালেব মিয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি হলেও তার সঙ্গে বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতের অনেক প্রভাবশালী নেতার সুসম্পর্ক রয়েছে। তার এসব অনৈতিক কর্মকান্ডে এখানে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সুপরিচালিত দল আওয়ামী লীগের ইমেজ ক্ষুন্ন হচ্ছে।


চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন আরও বলেন, একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ছিলেন আবু তালেব মিয়া। এই বাজারেই তিনি ব্যবসা করেছেন। হঠাৎ তিনি কোটিপতি হয়েছেন কিভাবে? তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে খুঁজে বের করার অনুরোধ জানাচ্ছি। ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, অরুয়াইল এলাকায় সরকারি জায়গা অবৈধ দখলে সহযোগিতা, এখানকার স্কুল ও কলেজের জায়গা নিয়ে বাণিজ্য ও সরকারি জায়গা পেরিফেরি একসনা বন্দোবস্ত লিজ এনে দেওয়ার নামে এই এলাকার বহু মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এই আবু তালেব মিয়া।

এ ব্যাপারে জানতে আজ শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে যোগাযোগ করলে অরুয়াইল ইউপি আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী আবু তালেব মিয়া বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া এসব কথা আমার সামনে বলার তার সাহস নেই। এই চেয়ারম্যান বাটপারি কথাবার্তা বলেছে। আমি কোনো সরকারি জায়গা দখল করিনি। অরুয়াইল বাজারে আমাদের ব্যক্তিমালিকানা একশ’রও বেশি দোকান ভিটি রয়েছে। চেয়ারম্যান যেই জায়গার কথা বলছে, সেই দাগের জায়গা আগের নকশায় ৪৪ শতাংশ ছিল কিন্তু বর্তমান নতুন নকশায় ৬৬ শতক লিপিবদ্ধ হয়েছে। নকশায় বেশি উঠলেও মূলত সেই পরিমাণ জায়গা এখানে নেই।

তিনি বলেন, নদীরপাড়ে যারা দোকানপাট করেছে, তারা সকলেই কমবেশি নদীর জায়গা দখল করেছে। বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমিও চাই বাজারের গণশৌচাগার দখলমুক্ত হউক। কিন্তু এই ইউপি চেয়ারম্যান কোনো পদক্ষেপই নিচ্ছে না। কারণ, এই চেয়ারম্যান নিজেই দুর্নীতিগ্রস্ত এবং একজন ধান্ধাবাজ প্রকৃতির লোক।

জানতে চাইলে সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সালেহ মো. মোসা জানান, অরুয়াইল বাজার এলাকায় সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করতে আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। অচিরেই সরকারি সম্পত্তি দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাফি/-

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com