আপডেট

x

অসুস্থতায় বিছানায় পড়ে থেকে শরীরে পচঁন ধরেছে শতবছরের বৃদ্ধ চাঁন মিয়ার

বুধবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২১ | ১২:০৬ অপরাহ্ণ | 498 বার

অসুস্থতায় বিছানায় পড়ে থেকে শরীরে পচঁন ধরেছে শতবছরের বৃদ্ধ চাঁন মিয়ার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বুধল ইউনিয়নের খাঁটিহাতার কোনাহাটি গ্রামের শত বছরের বৃদ্ধ চাঁন মিয়া। বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে রয়েছে দুই বছর যাবত। ফলে শরীরের বিভিন্ন অংশে ফোস্কা পড়ে পচঁন ধরেছে। কিন্তু অর্থের অভাবে করতে পারছেন না চিকিৎসা। চিকিৎসা তো দূরের কথা, রয়েছে খাবারের অভাবে।


সরেজমিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বুধল ইউনিয়নের খাঁটিহাতার কোনাহাটি গ্রামে চাঁন মিয়ার বাসস্থানে গিয়ে দেখা যায়, বিছানায় শুয়ে রয়েছে চাঁন মিয়া। শীতে শরীরে জড়ানো রয়েছে একটি ছেড়া লুঙ্গি। পাশে বসে রয়েছে তার স্ত্রী ৮০ বছরের বৃদ্ধা পেঁয়ারা বেগম।

webnewsdesign.com

চাঁন মিয়ার স্ত্রী পেঁয়ারা বেগম ও ছোট মেয়ে হোসনা আরা বেগম জানান, চাঁন মিয়ার নিজের বাড়ি ও প্রায় ২৪০ শতাংশ কৃষি জমি ছিল। সেই জমিতে কৃষি করে চলতেন। এক সময় আর্থিক অবস্থা সচ্ছল ছিল। ২ ছেলে ও ২ মেয়ের জনক তিনি। এরমধ্যে বড় মেয়ে জন্ম থেকে মানসিক প্রতিবন্ধী। দুই ছেলেই থাকে বাড়ির বাইরে। ছোট মেয়ে হোসনাকে বিয়ে দেওয়া হয়েছে বাড়ির কাছেই। চাঁন মিয়ার জমি ও নিজের বাড়ি বিক্রি করে দিয়েছে দুই ছেলে। বর্তমানে যে বাড়িতে বসবাস করছেন, এই বাড়িটি তারই ছিল। কিন্তু ছোট ছেলে তা বিক্রয় করে দিয়েছে। বাড়ির মালিক একটি ঘরে চাঁন মিয়া, তার স্ত্রী ও প্রতিবন্ধী মেয়েকে থাকার জায়গা দিয়েছেন।

তারা আরও জানান, চাঁন মিয়া অসুস্থ হয়ে বিছানা  পড়েন প্রায় দুই বছর আগে। এরপর থেকে অভাব অনটন আরও বাড়তে থাকে। অসুস্থ হয়ে বিছানায় শুয়ে থাকতে থাকতে তার শরীরে বিভিন্ন অংশে ফোসকা পড়েছে। এই ফোসকা পচঁন ধরেছে। কিন্তু চিকিৎসা করার মতো অর্থ নেই। অর্থের অভাবে  এমন সময় যায় এক বেলা খেলে আরও একবেলায় না খেয়েও থাকতে চাঁন মিয়ার পরিবারকে।

চাঁন মিয়ার সুস্থতার খবর পেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সোহরাব ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সোহাগ নামের দুই যুবক এসে কিছু খাদ্য সহায়তা করেন। ছাড়াও তারা চাঁন মিয়ার পরিবারকে অন্যান্যদের কাছ থেকে সহায়তা নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

তার ছোট মেয়ে হোসনা আরও জানান, আমার শ্বশুর বাড়ি কাছাকাছি হওয়া মাঝে আমি খাবার দেই। কিন্তু সব সময় দেওয়া সম্ভব হয় না। পাশাপাশি বাইরের লোকজনও খাবার দিয়ে যায়। যেখানে আমার বাবা খাবারই খেতে পারেন না, সেখানে তার চিকিৎসা কিভাবে করবে? তিনি বলেন, আমার দুই ভাই সম্পদ বিক্রি করার পর বাবার আর কোন খোঁজ রাখেন না। যে বাড়িতে আছেন, তার মালিকও বাড়ি ছাড়তে চাপ দিচ্ছেন। আমি ভাবনায় আছি, এই অবস্থায় আমার বৃদ্ধ বাবা, বৃদ্ধা মা ও প্রতিবন্ধী বোনের কি অবস্থা হবে? আমার বাবার চিকিৎসা করার মতো কেউ যদি এগিয়ে আসে, তাহলে কৃতজ্ঞ থাকবো।


চাঁন মিয়ার চিকিৎসা সহায়তা করতে পারেন আপনিও- বিকাশ পার্সোনাল- ০১৮৪৬-৬৬৪-৫৯৯

রাফি/-

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com