আপডেট

x

অবশেষে দুই বিতর্কিত এসআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানা থেকে বদলি

শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৯:৪৭ অপরাহ্ণ | 256 বার

অবশেষে দুই বিতর্কিত এসআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানা থেকে বদলি
বামে জাহাঙ্গীর আলম, ডানে রফিকুল ইসলাম

অবশেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা পুলিশের বিতর্কিত দুই উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রফিকুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীর আলমকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। পুলিশ সুপার কার্যালয়ের এক আদেশে রফিকুল ইসলামকে সরাইল ও জাহাঙ্গীরকে নবীনগর থানায় বদলি করা হয়েছে। এই দুই এসআইয়ের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডবের মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।


শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন সাংবাদিকদের জানান, তাদের এখানে (সদর মডেল থানা) অনেকেদিন হয়ে গেছে। সেজন্য বদলি করা হয়েছে।

webnewsdesign.com

সম্প্রতি পুলিশ সুপার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসআই রফিক ও জাহাঙ্গীরের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগের বিষয়টি পুলিশ সুপার মো. আনিসুর রহমানের কাছে তুলে ধরেন সাংবাদিকরা। তখন পুলিশ সুপার জানান, কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে- সেটি তদন্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধীতা করে গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যাপক তাণ্ডব চালায় হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থকরা। তারা সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সব ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় জড়ানোর ভয় দেখিয়ে এসআই রফিক ও জাহাঙ্গীর অনেকের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বুধল ইউনিয়নের কলামুড়ি গ্রামের তাজুল ইসলামের দুই ছেলে মনির হোসেন ও সাদ্দাম হোসেন স্থানীয় নন্দনপুর বাজারে মুদি ব্যবসা করেন। গত ২৭ মার্চ হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নন্দনপুর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ৬ জন মারা যান। সংঘর্ষের সময় ভিডিও ফুটেজে সাদ্দামকে দেখা গেছে জানিয়ে তাকে মামলা থেকে রক্ষা করার কথা বলে টাকা দাবি করেন এলাকায় পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত আবুল হোসেন।

বুধল ইউনিয়ন বিট পুলিশের ইনচার্জ এসআই রফিক ও সুহিলপুর ইউনিয়ন বিট পুলিশের ইনচার্জ এসআই জাহাঙ্গীরকে টাকা দিতে হবে বলে জানান সোর্স আবুল হোসেন। তখন মামলায় ফেঁসে যাওয়ার ভয়ে আবুল হোসেনকে ৪৫ হাজার টাকা দেন সাদ্দামের বড়ভাই মনির।


এ ঘটনা জানাজানি হলে তোলপাড় শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। পরবর্তীতে টাকা ফেরত দেন সোর্স আবুল হোসেন। তবে সোর্সের এই টাকা লেনদেন কাণ্ডে ‘ফেঁসে যাওয়ার ভয়ে’ আবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করেন এসআই রফিক। পরে তাকে হেফাজতের তাণ্ডবের সময় গ্যাস ফিল্ড কার্যালয়ে হামলা মামলায় চালান দেওয়া হয়।

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com