বাঞ্ছারামপুরে দু’পক্ষের সংঘর্ষে শিশু,পুলিশসহ আহত ২০

বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৭:২১ অপরাহ্ণ | 44 বার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় পাওনা টাকার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে ৫ পুলিশ, শিশুসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার দরিকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও এলাকাবাসির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দরিকান্দি গ্রামের মনির হোসেনের স্ত্রী শাহিদা বেগমের নিকট থেকে তার ননদ রফিকুল ইসলামের স্ত্রী রোজিনা বেগম ২০ হাজার টাকা ধার নেন তিন মাস আগে। ওই টাকা শোধ করতে গত সোমবার রোজিনাকে চাপ দেন শাহেদা। কয়েকজন প্রতিবেশির হস্তক্ষেপে এক পর্যায়ে মীমাংসা হয়। এতে রোজিনা ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করার কথা। তবে সেই টাকা সোমবারই পরিশোধ করতে শাহিদা রোজিনাকে বলেন। রোজিনা সোমবার টাকা না দিয়ে শুক্রবার তা পরিশোদ করার কথা বলেন। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে শাহিদার বাড়িতে কাজ করা রাজমিস্ত্রিসহ রোজিনার উপর হামলা চালায়। এতে রোজিনা আহত হন। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোজিনার ¯^ামীর বৈসাবাড়ি এবং শাহিদার মামার বাড়ি মাস্টার বাড়ি মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করে। গতকাল বৃহস্পতিবার সাড়ে ১১টার দিকে মাস্টার বাড়ির মো. বাবু এবং বৈসবাড়ির আবুল কালাম দুপক্ষের নেতৃত্বে পুলিশের উপস্থিতিতে টেটা, রামদা, রড, কাঠ নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ পাঁচটি টিয়ারসেল ও ২০ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এ সময় মাস্টার বাড়ির সাব্বির আহম্মেদ ওরফে ছবি এবং বৈসবাড়ির ১৪জনসহ ২০জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ ১৪জনকে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ¯^াস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। এঁদের মধ্যে শরীরে টেটাসহ সাতজনকে গুরুতর অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান জরুরী বিভাগের চিকিৎসক। টেটাবিদ্ধ হয়ে আহতরা হলেন, মোখলেছ মিয়ার ছেলে সাব্বির আহম্মেদ ওরফে ছবি(৪৫), মোর্শেদ মিয়ার ছেলে তাজুল ইসলাম (২৫), আবদুল জলিলের ছেলে রাশেদুল ইসলাম(২৩), আলী আকবরের ছেলে বাশির উদ্দিন(১৭), বকুল মিয়ার ছেলে মো. রাফি(১৪), রফিকুল ইসলামের ছেলে মো. মাসুদ(১০), হোসেন মিয়ার ছেলে মো. রফিকুল ইসলাম(৪৪), আবদুল অদুদের ছেলে মো. খোকন মিয়া, জলিল মিয়ার ছেলে মো. রানা((২২), বকুল মিয়ার ছেলে মো. সিজান(১২), নোয়াব মিয়ার ছেলে মো. একরাম হোসেন (৩২), জোৎ¯œা বেগম (৫৫), থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাব্বির রহমান, উপপরিদর্শক (এসআই) মামুনুর রশিদ, এএসআই মো. বেলায়েত।
বাঞ্ছারামপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাব্বির রহমান বলেন, ”শাহিদা বেগম ও রোজিনা বেগমের মধ্যে টাকা লেনদেনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবারে রোজিনাকে মারধরের ঘটনা থেকে সূত্রপাত। সোমবারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবারও তাদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়। বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই দরিকান্দি এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়। হঠাৎ সাড়ে ১১টার দিকে দু’পক্ষই দেশিয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫-১৬জন আহত হয়। প্রায় দেড় ঘন্টা চলে ধাওয়া পাল্টাধাওয়ার ঘটনা। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে আমি এবং তিন কর্মকর্তাসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যও আহত হয়। এ ঘটনায় থানায় কেউ মামলা করেনি, আটকও নেই। তবে মামলার প্রস্তুতি চলছে।”

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com