আপডেট

x

দৃষ্টান্ত হতে পারে জেদ্দা কনস্যুলেটের শ্রম কল্যাণ উইং

সোমবার, ০৪ মার্চ ২০১৯ | ৯:১৩ অপরাহ্ণ | 231 বার

দৃষ্টান্ত হতে পারে জেদ্দা কনস্যুলেটের শ্রম কল্যাণ উইং

সৌদি আরবের জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেটের শ্রম কল্যান উইং সাফল্যের দিক থেকে বিশ্বের অন্যান্য বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোর কাছে দৃষ্টান্ত হতে পারে। এমনটাই মনে করছেন কনস্যুলেট সংশ্লিষ্টরা। উইংয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে ভিসা সত্যায়ন, মৃতদেহ প্রেরন, মৃত ব্যাক্তিগনের পক্ষে ক্ষতিপূরণ আদায়, প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে মামলার পর আদালতের শুনানিতে অংশ নেওয়া ও বিভিন্ন কোম্পানি পরিদর্শনসহ নানা ক্ষেত্রেই সাফল্য অর্জন করেছে শ্রম কল্যান উইং।

সৌদি আরবের ইংলিশ পত্রিকা ‘সৌদি গেজেট’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে সৌদি আরবে প্রায় দশ লক্ষ প্রবাসী বাংলাদেশী অবস্থান করছেন। এর প্রায় অর্ধেক প্রবাসী জেদ্দা কনস্যুলেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় অবস্থান করছেন বলে মনে করছেন এই কনস্যুলেটের কর্মকর্তারা।

জেদ্দা কনস্যুলেটের শ্রম কল্যান উইং সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের জানুয়ারি হতে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে জেদ্দা কনস্যূলেটের শ্রম কল্যাণ উইং কর্তৃক ৮৬৩টি ভিসা সত্যায়ন করা হয়েছে। ৩৫৩টি মৃতদেহ বাংলাদেশে প্রেরণ করা হয়েছে। মৃত ব্যক্তিগণের পক্ষে আদায়কৃত ক্ষতিপূরণ ও আদায়কৃত বকেয়া বাবদ ১২ লক্ষ ৭৬ হাজার ৭৪৮ সৌদি রিয়াল আদায় করা হয়েছে। শরিয়া আদালতে ১৭৮টি শুনানিতে অংশ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১১৮ টি কোম্পানি পরিদর্শন করা হয়েছে। কোন গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি।

২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি হতে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে জেদ্দাস্থ শ্রম কল্যাণ উইং কর্তৃক ৩৯৬৩ (তিন হাজার নয়শত তেষট্টি) টি ভিসা সত্যায়ন করা হয়েছে। ৪০৪টি মৃতদেহ বাংলাদেশে প্রেরণ করা হয়েছে। মৃত ব্যক্তিগণের পক্ষে ১৫লক্ষ ৯০হাজার ৬১৮ সৌদি রিয়াল ক্ষতিপূরণ ও বকেয়া বেতন আদায় করা হয়েছে। শ্রম আদালতের মাধ্যমে ১ হাজার ৬০৮ জন কর্মীর বকেয়া বেতন বাবদ ৭২লক্ষ ৩৩হাজার ১৯৬ সৌদি রিয়াল আদায় করা হয়েছে। বিভিন্ন উৎস হতে শ্রম কল্যাণ উইং কর্তৃক ৪লক্ষ ২১হাজার ৪৬২ সৌদি রিয়াল আয় হয়েছে। শরিয়া আদালতে ২১৭টি শুনানিতে অংশ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২১৯টি কোম্পানি ও ১৭৪টি ক্যাম্প পরিদর্শন করা হয়েছে।

অপরদিকে ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি হতে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে জেদ্দাস্থ শ্রম কল্যাণ উইং কর্তৃক ২ হাজার ৩৭৬টি ভিসা সত্যায়ন করা হয়েছে। ৪১১টি মৃতদেহ বাংলাদেশে প্রেরণ করা হয়েছে। মৃত ব্যক্তিগণের পক্ষে ৩১ লক্ষ ৯০হাজার ৫৭৩ সৌদি রিয়াল ক্ষতিপূরণ ও বকেয়া বেতন আদায় করা হয়েছে। শ্রম আদালতের মাধ্যমে ৬৮৭ জন কর্মীর বকেয়া বেতন বাবদ ৭৮ লক্ষ ২ হাজার ৬৬ সৌদি রিয়াল আদায় করা হয়েছে। বিভিন্ন উৎস হতে শ্রম কল্যাণ উইং কর্তৃক ১৭লক্ষ ৪৪ হাজার ৯৪ সৌদি রিয়াল আয় হয়েছে। পাশাপাশি ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডে ৬ লক্ষ ৬০হাজার ৬৯২ সৌদি রিয়াল সমপরিমাণ বাংলাদেশী মুদ্রায় ১ কোটি ৪৫ লক্ষ ৩৫ হাজার ২২৪ টাকা প্রেরণ করা হয়েছে, যা নিকট অতীতকালের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ সময়ে ২১৯টি কোম্পানি ও ১৮০টি ক্যাম্প পরিদর্শন করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসনের আলোকে প্রবাসীদের নিকট তৃণমূল পর্যায়ে সেবা পৌছানোর লক্ষ্যে উক্ত সময়ে ১৫টি গণশুনানীর মাধ্যমে প্রবাসীদের সমস্যা সরাসরি শোনা হয়েছে। তাছাড়া ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সদস্য হিসেবে উক্ত সময় পর্যন্ত মোট ৪ হাজার ৪৬০জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যা বিশ্বের সকল মিশনের শীর্ষে।

২০১৫ সালের পূর্বে প্রবাসে আগত প্রবাসীদেরকে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্তির কার্যμমের অংশ হিসেবে ২০১৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত জেদ্দা কনস্যুলেটের শ্রম কল্যাণ উইং কর্তৃক ৫০৬৪ জনকে সদস্যভুক্ত করা হয়েছে যা বিশ্বের শীর্ষে। ২০১৭ ও ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত গণশুনানীর মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের প্রবাসীগণ সরাসরি সেবা পাচ্ছেন। তাদের সমস্যার সমাধান তাৎক্ষণিকভাবে দেয়া হচ্ছে। এতে সেবাগ্রহীতাগণের ভিজিট ও সময় কমে যাচ্ছে। যা সকলের জন্য উপকারী। জেদ্দা কনস্যুলেটের আওতাধীন বিভিন্ন শহরে অবস্থিত জেলখানায় আটক বাংলাদেশীদের মধ্যে মাদক, চুরি ও অর্থ জালিয়াতির অভিযোগ-ই বেশী।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, জেদ্দাস্থ কনস্যুলেটে শ্রম কাউন্সিলর হিসেবে মোঃ আমিনুল ইসলাম ২০১৬ সালের শেষদিকে যোগদানের পর শ্রম কল্যাণ উইংয়ের কার্যμমের পরিসর ও গতিশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সেবার গুনগত মানের ব্যপক ইতিবাচক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। শ্রম কল্যাণ উইংয়ের বর্তমান কার্যμমের ধারায় সেখানে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশীগণ সন্তোষ প্রকাশ করে তা চলমান রাখার আহবান জানান।
জেদ্দা কনস্যুলেটের শ্রম কাউন্সিলর মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুসাশন ও মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা মুতাবেক কনস্যুলেটের সেবাকে তৃনমূল পর্যায়ে পৌছে দিয়ে দূতাবাস ও প্রবাসীদের মধ্যে মেলবন্ধন আরো দৃঢ় করা ও দেশের উন্নয়নে প্রবাসীদের অংশগ্রহন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে প্রবাসীদের আগ্রহ সৃষ্টির চেষ্টা করে যাচ্ছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com