জুভেন্টাসের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে যা বললেন রোনালদো

মঙ্গলবার, ১৭ জুলাই ২০১৮ | ৮:৪০ অপরাহ্ণ | 22 বার

জুভেন্টাসের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে যা বললেন রোনালদো

জুভেন্টাসের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিপত্রে সই করেছেন ১০ জুলাই। গতকাল সোমবার হয়ে গেল সমর্থকদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক পরিচয়পর্বও। সমর্থকদের সঙ্গে পরিচয় শেষে নতুন ক্লাবের হয়ে নিজের প্রথম সংবাদ সম্মেলনটাও সেরে ফেললেন পর্তুগিজ সুপারস্টার। জুভেন্টাসের খেলোয়াড় হিসেবে প্রথম সেই সংবাদ সম্মেলনে অনেক কথাই বলেছেন রোনালদো। জানিয়েছেন জুভেন্টাসে যোগ দেওয়ার কারণ, শুনিয়েছেন চ্যালেঞ্জের কথা। ব্যক্ত করেছেন আশাবাদ, দিয়েছেন প্রতিশ্রুতি। জবাব দিয়েছেন সমালোচকদেরও। স্পষ্টই বলেছেন, ‘বুড়ো’ নয়, তিনি নিজেকে এখনো ‘তরুণ’ ভাবেন! তরুণ বলেই জুভেন্টাসের চ্যালেঞ্জটা নিয়েছেন।

বয়স হয়ে গেছে ৩৩। এই বয়সে তার দলবদলের গুঞ্জন শুনে অনেক ফুটবল বোদ্ধাই বলাবলি করছিলেন- রিয়াল যদি তাকে ছেড়েও দেয়, রোনালদো বড় কোনো ক্লাবে যেতে পারবেন না। বুড়ো রোনালদোকে ইউরোপের বড় কোনো ক্লাব কিনবে না! সেক্ষেত্রে তাকে পাড়ি জমাতে হবে ‘বৃদ্ধাশ্রম’খ্যাত যুক্তরাষ্ট্রের মেজর সকার লিগ, চীন বা কাতারের মতো দেশে। নাম লেখাতে হবে কম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লিগে।

কিন্তু বোদ্ধাদের সেই ধারণাকে মিথ্যা প্রমাণ করে রোনালদো পাড়ি জমালেন জুভেন্টাসের মতো ঐতিহ্যবাহী ক্লাবে। তুরিনোর ‘ওল্ড লেডি’রা এই বুড়ো রোনালদোকেও কিনেছে ১১২ মিলিয়ন ইউরো খরচা করে। রোনালদো দাবি করলেন ৩৩ বছরের বুড়ো নয়, এখনো তিনি নিজেকে ২৪-২৫ বছরের টগবগে যুবকই মনে করেন, ‘আমি এখনো তরুণ। আমি সব সময়ই চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসি। স্পোর্টিং লিসবন, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও রিয়াল মাদ্রিদে আমি চ্যালেঞ্জটা যেমন ছিল, জুভেন্টাসেও চ্যালেঞ্জটা সেরকমই থাকবে। এখানেও আমি আমার ক্যারিয়ারটাকে অনেক দূর টেনে নিয়ে যেতে চাই।’
এরপর নিন্দুকদের জবাবটা দিয়েছেন, ‘সাধারণত আমার বয়সী খেলোয়াড়েরা যুক্তরাষ্ট্র, চীন বা কাতারে যায়। কিন্তু আমি জানি এখনো আমার জয়ের ক্ষুধা আগের মতোই আছে। সেরাটা দিতেই আমি জুভেন্টাসে এসেছি। আমি প্রমাণ করতে চাই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও রিয়ালের হয়ে যা করেছি, জুভেন্টাসের হয়েও তা করত পারব। এটা আমার দৃঢ় বিশ্বাস।’

জুভেন্টাস বেছে নেওয়ার প্রসঙ্গে বলেন, ‘সিদ্ধান্ত নেওয়াটা আমার জন্য সহজই ছিল। কারণ, জুভেন্টাস অনেক বড় এক ক্লাব। তারা ইতালির সেরা ক্লাব। সেরা একজন কোচ আছেন। সেরা একজন প্রেসিডেন্ট আছেন। সবচেয়ে বড় কথা, দলটির উইনিং মানসিকতাও দুর্দান্ত।’

অনেকেই মনে করছেন বিশ্বসেরা রিয়াল ছেড়ে জুভেন্টাসে যোগ দেওয়ায় ক্যারিয়ারে একধাপ পিছিয়ে গেলেন রোনালদো। কিন্তু তিনি বরং মনে করেন উল্টোটা, ‘আমার মতে এটা কোনোভাবেই একধাপ পেছনে হাঁটা নয়। জুভেন্টাসের হয়ে খেলাটা বরং আমার ক্যারিয়ারটাকে একধাপ এগিয়ে নেওয়া হবে। আমি গর্বিত যে, জুভেন্টাস আমার সঙ্গে চুক্তি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

এরপরই জুভেন্টাস সমর্থকদের শুনিয়েছেন আশাবাদী গান, ‘আমি চাইব তাদেরকে আরও উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে। আমি যেখানেই গিয়েছি, সব সময়ই চেয়েছি মাঠ এবং মাঠের বাইরে উদাহরণ সৃষ্টি করতে। এখানেও চাওয়া থাকবে সেটাই। আমি কঠোর পরিশ্রম করতে চাই এবং জুভেন্টাসে অনেক অনেক শিরোপা জেতাতে চাই। আশা করি জুভেন্টাস আমাকে একসঙ্গে শিরোপা জেতায় সাহায্য করবে।’
একটু থেমে যোগ করেছেন, ‘আমি এখানে ছুটি কাটাতে আসিনি। জুভেন্টাসের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে চাই। আমি সব সময়ই ট্রফি জিততে চেয়েছি এবং সেরা হতে চেয়েছি। কখনোই ভাবিনি যে, আমি ৫টি ব্যালন ডি’অর জিততে পারব। কিন্তু জিতেছি। ঈশ্বর সহায় হলে আমি জুভেন্টাসের হয়েও আরও ব্যালন ডি’অর জিততে পারব। কেন নয়? তবে এটা আমার ঘুম নষ্ট করতে পারবে না।’

ইতালিয়ান সিরি আ’তে জুভেন্টাস অবিসংবাদিত সম্রাট। রেকর্ড ৩৪ বার লিগ শিরোপা জেতা জুভেন্টাস জিতেছে সর্বশেষ ৭ মৌসুমেই। ঘরোয়া ফুটবলে এমন একচ্ছত্র রাজত্বের পরও রোনালদোর মতো একজন ‘মহাতারকা’কে কেনার উদ্দেশ্য উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। নিজ দেশে রাজা হলেও জুভেন্টাস ইউরোপ সেরার মুকুট পরতে পেরেছে মাত্র দুবার। ১৯৮৪-৮৫ ও ১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে।

মানে জুভেন্টাস সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছে ২৪ বছর আগে। গত ৪ মৌসুমের মধ্যে দুবার ফাইনালে উঠলেও শিরোপার দেখা পায়নি। ২০১৭ সালে আবার জুভদের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে রোনালদোর রিয়ালের কাছেই। আরও একটু স্পষ্ট করে বললে রোনালদোর কাছে। কারণ, ২০১৭ সালের ৩ জুন কার্ডিফের ফাইনালে রিয়ালের ৪-১ গোলের জয়ে রোনালদো করেছিলেন জোড়া গোল।
রোনালদোয় ভর করে সামনে সেই হতাশা দূর করতে চায় জুভেন্টাস। রোনালদোও প্রতিশ্রুতি দিলেন চ্যাম্পিয়ন্স জেতানোর, ‘আমি জানি সব ক্লাবই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিততে চায়। জুভেন্টাসের জন্য এখন একটা সুযোগ। এই সুযোগটা নেওয়ার পাশাপাশি আমরা সব ট্রফিই জিততে চাইব। তবে আমাদের অবশ্যই শান্ত থাকতে। কারণ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতাটা খুবই কঠিন। সাম্প্রতিক সময়ে জুভরা বেশ কয়েবার কাছাকাছি গিয়েছে। কিন্তু ফাইনাল সব সময়ই আনপ্রেডিক্টেবল। আশা করি আমি তাদের ওই বাধা পেরোতে সাহায্য করতে পারব।’

জুভেন্টাসের চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত জানিয়ে বলেছেন, ‘এটা আমার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ। আমি এই চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত। আমি নিশ্চিত আরও একবার সবকিছুই ঠিকঠাক মতো হবে। শারীরিক এবং মানসিক, দুই দিক থেকেই আমি খুব ভালো বোধ করছি।’

৯ বছরে রিয়ালের হয়ে গোলের প্রায় সব রেকর্ডই নিজের করে নিয়েছেন। হয়ে গেছেন রিয়ালের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পেছন ফিরে রিয়ালে কাটানো সময়টার দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘রিয়ালের সঙ্গে আমার গল্পটা ছিল অবিশ্বাস্য, অসাধারণ। সমর্থকদের ধন্যবাদ। তবে আমি এখন অবশ্যই নতুন চ্যালেঞ্জের দিকে মনোযোগ দিব। ইতালিতেও এটা প্রমাণ করার চেষ্টা করব যে, আমি এখনো একজন শীর্ষ খেলোয়াড়।’

রোনালদো পারবেন? তিনি রোনালদো বলেই দুনিয়াজোড়া তার ভক্তদের বিশ্বাস-রোনালদো পারবেন।

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com