আগামীকাল পবিত্র ঈদুল আজ্হা ঈদের প্রধান জামাত জেলা ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮ টা

মঙ্গলবার, ২১ আগস্ট ২০১৮ | ৬:৫০ অপরাহ্ণ | 91 বার

আগামীকাল পবিত্র ঈদুল আজ্হা  ঈদের প্রধান জামাত জেলা ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮ টা

আগামীকাল বুধবার পবিত্র ঈদুল আযহা। ঈদ মোবারক। মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব এই ঈদ উৎসব পালনে প্রস্তুত গোটা দেশবাসীর সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীও। মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তম দুটি ধর্মীয় উৎসবের অন্যতম হলো- ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর এই ঈদুল আযহা। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় আত্মত্যাগের মাধ্যমে হালাল পশু কোরবানীর মধ্যদিয়ে ঈদুল আযহার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে প্রস্তুত দেশবাসী। ইসলামের পরিভাষায় কোরবানী বলা হয় নির্দিষ্ট পশুকে একমাত্র আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট সময়ে আল্লাহর নামে জবেহ করা। কোরবানীর ঈদ নামে পরিচিত ঈদুল আজহার অন্যতম শিক্ষা হচ্ছে- মনের কুপ্রবৃত্তিকে পরিত্যাগ করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন।
পবিত্র হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, প্রতি বছর জিলহজ্ব মাসের ১০ তারিখে বিশ্বের মুসলিমরা সাধ্য অনুযায়ী পশু কোরবানী দিয়ে থাকেন এবং নামায আদায় করেন। আরবি আযহা এবং কোরবান উভয় শব্দের অর্থ হচ্ছে উৎসর্গ। কোরবানী শব্দের উৎপত্তিগত অর্থ হচ্ছে- আত্মত্যাগ, আত্মৎসর্গ, নিজেকে বিসর্জন, নৈকট্য লাভের চেষ্টা ও অতিশয় নিকটবর্তী হওয়া ইত্যাদি। মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইব্রাহিম (আ.) প্রায় চার হাজার বছর আগে আল্লাহর নির্দেশে তার প্রিয় শিশুপুত্র হজরত ইসমাঈলকে (আ.) মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশে কোরবানী দেয়ার উদ্যোগ নিয়ে ত্যাগের মহিমায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। সেই ত্যাগের অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত অনুসরণ করেই সমগ্র বিশ্ব মুসলিম কোরবানীর ঈদ পালন করে থাকেন। পবিত্র কোরআন শরীফের সূরা হজে আল্লাহপাক বলেন, ‘আমার কাছে পশুর রক্ত, মাংস, হাড় পৌঁছে না, পৌঁছে তোমাদের অন্তরের তাকওয়া বা খোদাভীতি।’ব্রাহ্মণবাড়িয়া সহ সারাদেশে ইতোমধ্যেই জাতীয় ঈদগাহ ময়দানসহ ঈদের জামাতের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঈদের প্রধান জামাত সকাল ৮ টায় শহরের কাজীপাড়াস্থ জেলা ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে। তবে আবহাওয়া প্রতিকুল হলে ঈদের জামাত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া টেংকের পাড় ময়দান, সদর হাসপাতাল মসজিদ প্রাঙ্গণে, কাউতলী স্টেডিয়াম, শেরপুর, মেড্ডা, ভাদুঘর ঈদগাহ সহ জেলার বিভিন্ন স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও সকাল ৮টায় ও ৯টায় ঈদ জামায়াত অনুষ্ঠিত হবে। ঈদের প্রধান জামাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র‌্যাব ও পুলিশসহ আইন- শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রাখবে। বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং বেসরকারি স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলগুলো ঈদের দিন বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করবে। ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করেছে। ঈদের দিন দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু সদন, ছোটমনি নিবাস, সামাজিক প্রতিবন্ধী কেন্দ্র, আশ্রয়কেন্দ্র, ভবঘুরে কল্যাণ কেন্দ্র ও দুস্থ কল্যাণ কেন্দ্রসমূহে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। এ ছাড়া বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহ জাতীয় কর্মসূচি ও কর্মসূচির আলোকে ঈদুল আযহা উদযাপন করবেন। ঈদ উপলক্ষে মুসল্লীদের নিরাপত্তা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রশাসনসহ সারাদেশে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com