অভ্যন্তরীণ মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে তৃতীয়

বুধবার, ১৮ জুলাই ২০১৮ | ১০:৪০ অপরাহ্ণ | 32 বার

অভ্যন্তরীণ মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে তৃতীয়

২০১৮ সালে অভ্যন্তরীণ মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে উন্নীত হয়েছে। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালে অভ্যন্তরীণ মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল পঞ্চম। বুধবার জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন-এফএও) সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্য উপস্থাপন করে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০১৮ উপলক্ষে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এ তথ্য জানান।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন-এফএও) প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বে এখন অভ্যন্তরীণ মৎস্য উৎপাদনে শীর্ষে রয়েছে চীন। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত। তালিকার পরের অবস্থানে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ ইকোনমিক রিভিউয়ের তথ্যমতে, দেশের জিডিপিতে মৎস্য খাতের অবদান এখন ৩.৫৭ শতাংশ এবং কৃষিজ জিডিপিতে এ খাতের অবদান ২৫.৩০ শতাংশ। আর দেশের মোট জনগোষ্ঠির ১১ শতাংশের অধিক লোক মৎস্য আহরণে জড়িত। ২০১৭-১৮ সালে দেশ প্রায় ৬৯ হাজার মেট্রিক টন মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রফতানি করে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছে।
বাংলাদেশ মৎস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ায় দেশের জনগণ এখন জনপ্রতি গড়ে ৬২.৫৮ গ্রাম মৎস্যগ্রহণ করছে, যদিও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, জনপ্রতি দরকার মাত্র ৬০ গ্রাম। জাটকা নিধন রোধের কার্যকারিতার দরুণ ব্যাপক ইলিশ উৎপাদনের কারণে ২০১৭-১৮ সালে প্রায় ৫ লাখ টন ইলিশ উৎপাদিত হয়েছে। ২০০৮-০৯ সালে যা ছিল প্রায় ৩ লাখ টন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেন, বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় ২৯৮ প্রজাতির মাছ, ২৩ প্রজাতির চিংড়ি মাছ, ১৬ প্রজাতির ক্রাস্টেপিয়ান ও ১২ প্রজাতির মলাস্কা চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০১৬-১৭ সালে প্রায় ৪২ লাখ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদনের মাধ্যমে দেশ মাছে সয়ম্ভরতা অর্জন করেছে, যা আমাদের ধরে রাখতে হবে। সারাবিশ্বে একমাত্র বাংলাদেশি মাছ হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে ইলিশ মাছের জিআই (GI) সনদ প্রাপ্তির কথা উল্লেখ করে তিনি মৎস্য খাতের জন্য যথাযথ অবদান রাখায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, জেলেসহ মিডিয়া কর্মীদের প্রশংসা করেন।
জাটকা নিধন রোধে সহায়তা করায় ২০১৭-১৮ সালে প্রায় আড়াই লাখ জেলে পরিবারকে ৪০ কেজি হারে ৪ মাসে প্রায় ৪০ হাজার টন খাদ্য সহায়তা এবং ২২ দিন পর্যন্ত মা-ইলিশ আহরণ বন্ধ রাখায় বিগত ২ বছরে প্রায় ৪ লাখ জেলে পরিবারকে প্রায় ১৫ হাজার টন ভিজিএফ দেয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com